নির্যাতনের কারণেই রাজশাহী নগরের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী রমজানের পুত্রবধূ ওয়াহিদা সিফাতের (২৭) মৃত্যু হয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতেই একটি অভিযোগ করা হবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে, সিফাত নামের ওই গৃহবধূর ময়নাতদন্ত রিপোর্টেও মাথায় জখমের প্রমাণ মিলেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। তবে রামেকের প্রধান চিকিৎসক বলছেন, আত্মহত্যা করেছেন সিফাত এটা নিশ্চিত।

এছাড়া আত্মহত্যার জন্য দায়ী তার স্বামী মোহাম্মদ আশিফ ওরফে পিসলিকে আটক করেছে পুলিশ। দুপুরে নগরের মহিষ বাথান এলাকার আইনজীবী রমজানের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে আটক পিসলির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। রাতের মধ্যেই থানায় এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের কারণেই সিফাত আত্মহত্যা করতে পারে, অথবা নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হতে পারে। তার বাবা আমির হোসেন রূপালী ব্যাংকের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক। বর্তমানে তিনি রংপুরে কর্মরত। তবে সিফাতের মৃত্যুর পরে তারা সবাই ভেঙে পড়ায় এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। কিন্তু তাকে নির্যাতন করা হত, এটা সঠিক। এর আগেও তাকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করতো পিসলি।’

অপরদিকে, রামেকের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক জোবাইদুর রহমান  বলেন, ‘গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাত গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এটা নিশ্চিত। তবে তাঁর মাথায় একটি জখমের চিহ্ন রয়েছে। যদিও জখমের কারণে সিফতের মৃত্যু হয়নি। আত্মহত্যাই তার মৃত্যুর কারণ। এখন পুলিশ সেই জখমটিকে কিভাবে নেবে, সেটি তাদের বিষয়।’

নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তারা পেয়েছেন। তাতে মাথায় জখমের কথা বলেছেন চিকিৎসক। কিন্তু কি কারণে মাথায় জখম হলো, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গৃহবধূর স্বামী পিসলিকে আটক করা হয়েছে। সিফাতের পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে তাকে সেই অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান ওসি।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে পাস করা ওয়াহিদা সিফাতকে গত রোববার রাত ১০টার দিকে তার স্বামীর বাসা থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জেআই