মাজারে হামলার ছক করেছিল জেএমবির সদস্যরা। পীর ও ফকিররা ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী বলে মনে করে তারা। তাই পীর-ফকিরদের হত্যার উদ্দেশে সংগঠিত হচ্ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি গ্রুপ। তারা ঢাকার একটি পীরের মাজারে হামলার ছক কষেছিল। এ জন্য ছদ্মবেশে ওই মাজারটি রেকিও করেছিল গ্রুপটি। 

বুধবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে র‌্যাব-২ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার ৩ জেএমবি সদস্যকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের উপর ভিত্তি করে এ সব তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইফতেখারুল মাবুদ। 

এর আগে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকার বেগুনবাড়ি পোস্ট অফিসের সামনের রাস্তা থেকে জেএমবির তিন সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-২। তারা হলেন- মফিজুল ইসলাম ওরফে তুষার ওরফে তাওহিদ (২৯), রকিবুল ইসলাম ওরফে রকিব মোল্লা (২৩), ইলিয়াছ আহমেদ (১৯)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান বিস্ফোরক দ্রব্য, ছুরি, চাপাতি ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়। 

ইফতেখারুল মাবুদ বলেন, ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ তৎকালীন জেএমবির ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেতা ইয়াছিনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১০। গতকাল রাতে আটককৃতরা ইয়াছিনের অনুসারী। তারা সবাই ইয়াছিনের হাত ধরে জঙ্গিবাদে এসেছেন। ইয়াছিনের অবর্তমানে ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বে আছেন সোহেব ওরফে সোয়াইব।

এই গ্রুপে ১৫-২০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। তারা গত ২ বছর ধরে সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। গতরাতে র‌্যাবের অভিযানের সময় তিনজনকে আটক করা গেলেও আরো সাত থেকে নয়জন পালিয়ে যায়।

র‌্যাব সূত্র জানায়, আটক শেরপুরের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম ঘাইলারা শামসুল হক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দশম শ্রেণীতে টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করে। পরে সে ২০০৩ সালে নরসিংদীর একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ শুরু করে। ছয় মাস পর গাজীপুরের একটি সোয়েটার কোম্পানিতে কাজ শুরু করে সে। ২০১৩ সালে জঙ্গি নেতা ইয়াছিনের হাত ধরে সে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। 

ফরিদপুরের বাসিন্দা রকিবুল ইসলাম দ্বিতীয় শ্রেণী পাশ করার পর গোপালগঞ্জ কুসুমদিয়া কওমী মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে নূরানী পাশ করে। ২০১২ সালে গাজীপুরের সাইনবোর্ডে একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি নেয়। সেখানে কাজ করাকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে জঙ্গি নেতা ইয়াছিনের সাথে পরিচয় হয়।

ইয়াছিন তাকে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে। জেএমবিতে যোগদানের পর সংগঠনের জন্য সদস্য ও অর্থ সংগ্রহ করে নিজেকে সক্রিয় সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 

শেরপুরের বাসিন্দা ইলিয়াছ ২০১৩ সালে দাখিল পাস করে বেকার থাকেন। ২০১৬ সালে চাকরির জন্য চাচাত ভাই মফিজুল ইসলামের কাছে আসে। মফিজুল ইসলামের মাধ্যমেই ইলিয়াছ জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়।

এমএনজে