কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং শরণার্থী শিবির সংলগ্ন রোহিঙ্গা বস্তিতে স্থানীয় বনকর্মী ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে দফায় দফায় ইট পাটকেল ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে বনকর্মকর্তা সহ ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শরণার্থী শিবির সংলগ্ন নতুন রোহিঙ্গা বস্তিতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সেনা বাহিনীর দমন নিপীড়নের অত্যচার নির্যাতন সহ্য করতে না বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

গত ২ মাসে উখিয়ার ক্রাইম জোন হিসেবে খ্যাত কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে দেশী দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রায় ২৩ হাজার ঝুঁপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিল।

কুতুপালং গ্রামের আবুল খায়ের জানান, রোহিঙ্গারা ইতিমধ্যে প্রায় দেড় হাজারের অধিক ঝুঁপড়ি ঘর নির্মাণ করেছে ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি এলাকায় উখিয়া রেঞ্জের আওতাধীন বন বিভাগের বন কর্মকর্তা, বিট কর্মকর্তা, হেডম্যান, বনকর্মী সহ ২৫ জনের একটি দল রোহিঙ্গা বস্তির ৬৫ টি ঝুঁপড়ি ভেঙ্গে দেয়। এর আগে গতকাল বুধবারও ৮০ টি ঝুঁপড়ি ঘর ভেঙ্গে দেয় বনবিভাগ। 

বনকর্মীরা ফেরৎ আসার সময় স্থানীয় দালাল চক্র রোহিঙ্গাদের সাথে নিয়ে বনকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

বনকর্মকর্তরা দাবি করেন, রোহিঙ্গা শিবির থেকে ইট-পাটকেলসহ তাদের উপর ৮/১০ রাউন্ড গুলি বর্ষন করা হয়েছে। এর জবাবে বনকর্মীরাও পাল্টা ১ রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষন করে।

রোহিঙ্গাদের ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, উখিয়া সদর বিট কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান, উয়ালাপালং বিট কর্মকর্তা ফেরদৌস, উখিয়ার ঘাট বিট কর্মকর্তা মোবারক আলী, মোছার খোলার বিট কর্মকর্তা মাসুদ সরকার, দোছরী বন বিট কর্মকর্তা আমির হোছন গৌজনবী, উখিয়া সদর হেডম্যান মোঃ ইব্রাহিম, বনকর্মী তরিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শাহ জাহান সহ ১৫ জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গারা উখিয়ার কুতুপালং বন ভূমির জমিতে ঝুঁপড়ি ঘর নির্মাণ করে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকালে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে দুপুর ১২ টায় শত শত রোহিঙ্গারা তাদের উপর ছড়াও হয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ফাকা গুলি বর্ষন করেন। এর জবাবে বনকর্মীরাও ১ রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষন করেন বলে জানান তিনি।

উখিয়া সদর বন বিট কর্মকর্তা আবদুল মন্নান বলেন, ৯৭-৯৮ সালের রোপিত বন বিভাগের জায়গার উপর রোহিঙ্গারা দেড় হাজারের অধিক ঝুঁপড়ি নির্মাণ করেছে। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা ঐ ঝুঁপড়ি গুলো উচ্ছেদ করতে গেলে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়।

এর আগেও গত বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৮০ টি রোহিঙ্গার নির্মিত ঝুঁপড়ি ঘর ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এ ব্যাপারে উখিয়া থানায়, উখিয়া সদর বিট কর্মকর্তা আবদুল মন্নান বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে, উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়েরের ব্যবহৃত সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।

মানিক/জারিফ