নোয়াখালীতে অবিরাম শিলাবৃষ্টিতে ৫ উপজেলায় ৩ হাজার ৭শ ৬০ হেক্টর অধিকাংশ জমিতে গত ৩১ মার্চ রাতে শিলা বৃষ্টিতে প্রায় ৪ কোটি টাকার তরমুজ নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় অফিস সূত্রে জানায়, শুকনা মৌসুমের ফসলের মধ্যে সুবর্ণচর ৩ হাজার ১শ হেক্টর, সদর ৫শ ৩০ হেক্টর, হাতিয়ায় ৩৫ হেক্টর, কোম্পানীগঞ্জ ৫৫ হেক্টর ও কবিরহাট উপজেলায় ৪০ হেক্টরসহ ৩ হাজার ৭শ ৬০ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা তরমুজের চাষ করছে।
কৃষকেরা জানান, লাখ লাখ টাকা ছড়া সুদে লোন নিয়ে অধিক মূল্যে কীটনাশক প্রতিরোধের ওষুধ ও সার প্রয়োগ করে তরমুজ ক্ষেতে অধিক উৎপাদন করতে ব্যবহার করা হয়।
তরমুজ ক্ষেতে বীজের চারা গজানোর পর বৃদ্ধি পেতে প্রতিদিন শুকনা মৌসমে ক্ষেত থেকে ৫ কি:মি দূরে পুকুর থেকে পাম্প মিশিন দিয়ে পানি সরবরাহ করে জমির তরমুজের চারায় পানি দিতে হয়।
নোয়াখালী উপজেলা রেড ক্রিসেন্ট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আকর্ষিক শিলা বৃষ্টির পূর্বাশে কৃষদের সতর্কতা সংকেত দেয়ার বিষয়টি সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব।
অথচ গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যার পর উপজেলার ওই কর্মকর্তারা দায়িত্ব ও কতৃব্যে অবহেলা করে কৃষকদের সতর্ক না করায় কোটি কোটি টাকার পাকা তরমুজ শিলা বৃষ্টিতে পেটে নষ্ট হয়ে যায়।
এতে শত শত কৃষকেরা পরদিন সকালে ক্ষেতে তাদের কষ্টে উপার্জিত পাকা তরমুজ শিলা বৃষ্টিতে বিনিষ্ট হতে দেখে অনেকে ব্যাংকে ছড়া সুদের টাকা পরিশোধের আতঙ্কে এক ব্যাক্তি ক্ষেতের পাশে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারান ও আহত ব্যাক্তিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্থ¯’ কৃষকদের বিনিষ্ট তরমুজ সরেজমিনে দেখতে ও ক্ষতিগ্রস্থদের শান্তনাও দিতে প্রয়োজন মনে করেনি।
সূবর্ণচর উপজেলার দক্ষিন চর বাগগা গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে আবুল কাশেম, একই গ্রামের মৃত শেকান্তর মিয়ার ছেলে মজিবুর হক, চরজব্বর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে নুর উদ্দিন, একই গ্রামের মুরাদ মিয়ার ছেলে আবদুল মতিন, চর ক্লার্ক গ্রামের আবদুল হকের ছেলে হারিছ মিয়া, জানান, আমরা ¯’ কৃষি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে মৌসুমি লাখ লাখ টাকা তরমুজ চাষ করতে ছড়া সূদে ঋন নেয়া হয়।
সরকার প্রতি শুকনা ও বর্ষা মৌসমে আকাশে মেঘ দেখলে পূর্বাভাস হিসাবে উপজেলা নির্বাহী, কৃষি কর্মকর্তা, ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তারা কৃষকদের সতর্ক করতে নির্দেশ দেওয়া হলেও আমলে নেইনি তারা।
কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলায় তরমুজ চাষ শত শত কৃষকদের কোটি কোটি টাকার তরমুজ শিলা বৃষ্টিতে বিনিষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অপরদিকে, সদর উপজেলায় কালাদরাপ ইউনিয়নের দক্ষিন শুলুকিয়া গ্রামের মো: শাহজাহান, একই গ্রামের আবদুল হক, আন্ডার চর গ্রামের মজিবুর রহমান, একই গ্রামের সুলতান মিয়াসহ অপর কৃষকেরা জানান, শত শত কৃষদের ৫শ ৩০ হেক্টর জমিতে পাকা তরমুজ শিলা বৃষ্টিতে ফেটে সম্পূর্ণ বিনিষ্ট হয়ে যায়।
শিলা বৃষ্টির পূর্বাবাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তারা কৃষকদের শতর্ক সংকেত না দেয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ¯’ কৃষকদের কোটি কোটি টাকার তরমুজে শিলা বৃষ্টিতে বিনিষ্ট হয়েছে।
ব্যাংকের মৌসুমি ঋনের লাখ লাখ টাকার আসলসহ সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে কৃষকেরা ভিটে,বাড়ি, গর“, ছাগল বিক্রি করা ছাড়া বিকল্প নেই।
সদর উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, আকর্ষিক শিলা বৃষ্টিতে শতর্ক না করায় শত শত কৃষকদের পাকা তরমুজে শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে সরেজমিনে তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্থ¯’ কৃষকদের তরমুজ ক্ষেতের তালিকা জেলা উপ-পরিচালকের কাছে দেওয়া হয়েছে। একই কথা বলেন, সুবর্ণচর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা।
এ দিকে নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারন উপ-পরিচালক প্রনব ভট্রো আচার্য জানান, সুবর্ণচর, হাতিয়া, কবিরহাট,ও সদর উপজেলার কৃষকদের চাষকৃত তরমুজের ক্ষেত গুলোতে শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এসএম





