গত এক সপ্তাহ ধরে বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় ভারতীয় বুনো হাতির পাল অবস্থান নিয়েছে। তারা ভারতে ফিরে না গিয়ে এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে।

প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা অবস্থিত। এই উপজেলার পাহাড়ি জনপদ বিশেষ করে সাতানিপাড়া, গারোপাড়া, বালুঝরি, টিলাপাড়া, লাউচাপড়া, ডুমুরতলা, দিঘলকোনা, হাতিবেড়কোনা, শোকনাথপাড়া, কনেকান্দি, চন্দ্রপাড়াসহ ১০টি গ্রামে বাঙালি, হিন্দু, গারো, কোচসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রায় ১০-১২ হাজার মানুষের বসবাস।

এ সব গ্রামজুড়ে রয়েছে বিশাল বনভূমি। বাংলাদেশের বনাঞ্চল অপেক্ষাকৃত সমতল। এ কারণে এবং খাদ্যের সন্ধানে ভারতের গহীন বনাঞ্চলে বসবাসরত বুনোহাতির পাল সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশের সমতল ভূমিতে প্রবেশ করে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনের বসতবাড়ি, ফসল ধ্বংস করে আবার ফিরে যায়।

কিন্তু এবার গত এক সপ্তাহ ধরে বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বুনোহাতির পাল অবস্থান নিয়েছে। এরই মধ্যে ওই হাতির দল এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে কয়েকশ একর জমির ধান, শাকসবজির বাগানসহ গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

হাতি তাড়াতে এলাকাবাসী প্রতিদিন মশাল, আগুন জ্বালিয়ে, হৈ হুল্লোড় করে, ঢাকঢোল পিটাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানান। হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে পাহাড়ে বসবাসকারীদের অনেকেই নিজ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

টিলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা পিটিসন সাংমা জানান, ভারতীয় বন্যহাতি এ এলাকায় অবস্থান করে তার নিজের জমির আমন ধান ক্ষেত তছনছ করছে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের নেতা হোসিও সং বলেন, গত ৩০ বছর ধরে আমরা হাতির ভয় নিয়েই এখানে জীবন যাপন করছি। গত ৫ বছরে এ এলাকায় হাতির আক্রমণে অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

স্থানীয় কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, ভারতীয় হাতির পাল বাংলাদেশের ভেতর এসে জনগণের ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষতি করছে।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন আহাম্মেদ জানান, হাতীর আক্রমণ থেকে এলাকাবাসীদের রক্ষা করতে উচ্চপর্যায়ে বার্তা পাঠান হয়েছে।

এএইচ