‘আমার বাবা নাস্তিক ছিলেন না। ব্লগে লেখালেখি নিয়ে আমার বাবার বিরুদ্ধে নানা কথা মিডিয়ায় বলা হলো কিন্তু আমার বাবা যে মসজিদ তৈরি করেছেন তার কথা তো কোথাও লেখা হলো না? গান বাজনা করলেই বলা হয় লোকটা নামাজ-কালাম পড়ে না, লোকটা নাস্তিক। সমাজে এই ধরনের মিথ্যা সৃষ্টি হওয়ার ফলে খুনীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে। যতদিন না এই ভুল ধারণা দূর হবে ততদিন এদেশে সঠিক বিচার হবে না। সঠিক বিচার ওই ব্যক্তির সঙ্গে কবরে চলে যাবে।’

সোমবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকী স্মরণে শোকসভায় তার মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভী এসব কথা বলেন। ইংরেজি বিভাগের আয়োজনে বিভাগের ১৫০ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাবার শোক সভায় মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভী বলেন, আমাদের সমাজে একটি মিথ দাঁড়িয়ে গেছে যে, ‘মুক্তমনা মানেই আওয়ামী লীগ, নাস্তিক। দাঁড়িওয়ালা মানেই বিএনপি-জামায়াত-শিবির। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সমাজে এ মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য কি শুধু খুনিরাই দায়ী, নাকি আমরাও? এ মিথ্যাগুলো আমরাই সৃষ্টি করেছি।’

ড. সিদ্দিকীর ব্লগে লেখালেখির বিষয়ে তার মেয়ে আরো বলেন, ‘বাবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে তেমন কিছুই বুঝতেন না। তিনি ব্লগে লেখালেখি করতেন না। তাই বাবার লেখালেখি সম্পর্কে যে ভুল ধারণা ছড়িয়েছে তা যেন আর না ছড়ায়।’

বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তিনি আরও বলেন, 'এরকম করে বাংলাদেশ চলতে পারে না। এদেশে এখন যে কেউ যখন যাকে খুশি হত্যা করছে। তার কোনো বিচার হচ্ছে না। এটা একটা দেশের সুষ্ঠু পরিস্থিতি তুলে ধরে না। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের শিকার না হয়।'

এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লে পুরো শোকসভাস্থলে কান্নার রোল পড়ে যায়।

শোক সভায় ড. সিদ্দিকীর স্ত্রী হোসনে আরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমাদের সমাজ দিন দিন এমন দিকে চলে যাচ্ছে যেখানে বিচার হয় না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির কারণেই আজ অপরাধীরা অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারী সেই যমদূতদের স্বচোখে দেখতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই তিনি সিদ্দিকীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে প্রমাণ করুক যে বাংলাদেশের কতটা অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, সঠিক বিচার পাবো কিনা তা নিয়ে আমরা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছি।

শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুপুর সাড়ে ১২টায় শোক র‌্যালি ও মানববন্ধন করেছে বাগমারা থানা সমিতি। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

এমআইএস