বন্যার পানিতে ভারত থেকে ভেসে আসা সেই বন্যহাতিটি উদ্ধারে ঢাকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দুর্গম চরে পৌঁছেছে।

শুক্রবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মনসুর নগর ইউনিয়নের চরছিন্না এলাকায় পৌঁছে চার সদস্যের এ প্রতিনিধিদল। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকার বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক।

সিরাজগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ইকোপার্কের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম খলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে বন বিভাগের প্রতিনিধিদল ট্র্যাংকুলাইজারসহ বন্যপ্রাণী উদ্ধারের যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজিপুরে আসেন। শুক্রবার সকালে ছিন্নার চরের হাতির অবস্থান করা এলাকায় যায়।

প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সিরাজগঞ্জের ফরেস্ট অফিসার নুরুল ইসলাম রয়েছেন। এছাড়া ডিএফও (পাবনা) মো. আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।

ঢাকার বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, এখন সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছি। অজ্ঞান করার জন্য ট্যাংকুলাইজার মেশিন আনা হয়েছে। দুর্গম চরে অবস্থান করায় হাতিটি অজ্ঞান করার পর এটিকে নিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে নদীর কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারলে জাহাজে করে বহন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, বিষয়টি ভারতীয় বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। যথাসময়ে পৌঁছালে হাতিটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় এটি ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল হালিম জানান, হাতিটির জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন কর্মকর্তারা অবস্থা বুঝে হাতিটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তবে হাতিটিকে যেন কেউ বিরক্ত না করে সে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ জুন কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ভেসে আসে ভারতীয় হাতিটি। পরে রৌমারী হয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ এলাকা হয়ে ১৯ জুলাই সিরাজগঞ্জের মনসুরনগর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল চরছিন্না এলাকায় এসে অবস্থান নেয়।

এমআইএস