রাস্তা দখল ও শর্ত ভঙ্গ করে রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট বসানো সুনিদিষ্ট অভিযোগে ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত করাসহ আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছেন ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির কর্তৃপক্ষ। তবে ঢাকা উত্তর সিটির কর্তৃপক্ষ ইজারাদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ কঠোর ব্যবস্থানে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গেছে, এবারের কোরবানির ঈদে রাজধানীতে মোট ১৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেয়া হয়। শর্ত ছিল, নির্দিষ্ট সীমানার বাইওে পশুর হাট বসানো যাবে না। একই সঙ্গে হাট শেষে পশুর বর্জ্য, বাঁশ, খুটি অপসারণ করতে হবে। কিন্তু ইজারাদারা এশর্ত মানে নি। সীমানা ছাড়িয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে হাট বসিয়েছেন। এমনকি বাদ পড়েনি আগারগাঁও হাসপাতালের গেটসহ পুরো এলাকায় হাট বসায়।
শুধু তাইনয় , কোরবানির পশু হাটে কোটি কোটি টাকার ব্যবস্থা শেষে সটকে পড়েছেন ইজারাদাররা। পরে বাধ্য হয়ে সিটি করপোরেশনকে এসব কাজ করতে হয়েছে। উপরন্তু নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের পাশে হাট বসানোর জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভের সঙ্গে ডিএনসিসির প্রশাসক এবং প্রনিকের বিরুদ্ধে আকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
তিনি বলেন, আগারগাঁও এলাকায় হাসপাতালের আশপাশে হাট না বসানোর অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। তারপর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি নগর কর্তৃপক্ষ। আর ডিএনসিসি বলছে, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তাদেরকে কিছু জানানো হয়নি। তারপরও রোগীদের কথা বিবেচনা করে হাসপাতালের পাশে হাট না বসানোর জন্য ইজারাদারকে সর্তক করে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তারা সীমানা ছাড়িয়ে হাট বসিয়েছে। তাই এসব ইজারাদারদের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে সিটি করপোরেশন।
জানা যায়, আগারগাঁও বস্তি খালি জায়গার হাটের ইজারাদার যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম জাহিদ। এ যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে এবার আগারগাঁও, তালতলাসহ পুরো এলাকা কোরবানীর পশুর হাট বসিয়েছে।একই সঙ্গে সরকার দলীয় নেতা কর্মীরা এবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার উপর অনেকটা জোরকরে কোরবানীর পশুর হাট বসিয়েছেন।
এদিকে ডিএসসিসির পক্ষথেকে ‘শর্ত ভঙ্গের ব্যাখা চেয়ে ইজারাদারদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চিঠির সঠিক জবাবা না পাওয়া গেলে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে। প্রয়োজনে ইজারার টাকা আর ফেরৎ পাবেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এমনকি এসব ইজারাদারদের নাম কালো তালিকাভূক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। যাতে তারা আগমী বছর কোনও পশুর হাট বসানোর অনুমতি না পায়।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক ও ডিএসসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনছার আলী খান বলেন, যেসব ইজারাদার শর্ত ভঙ্গ করে রাস্তায় কোরবানির পশুর হাট বসিয়েছে তাদেও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। কারণ তারা এক দিকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। অপদিকে তাদের সৃষ্ট বর্জ্য অপসারণের ও পরিষ্কার করতে হয়েছে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের। অথচ ইজারাদাররা শর্ত ভঙ্গ করে পশুর হাট ময়লা আবর্জনা রেখেই চলে গেছেন। বাড়তি এই কাজ করতে গিয়ে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। তাই এখন ওই সব ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একে,জেইউ





