একে তো নেই অনুমোদন তার ওপর অবৈধ কার্যক্রম। এভাবেই চলছে রাজধানীর মতিঝিল পাড়ার বেশিরভাগ ক্রীড়া সংঘ বা স্পোর্টিং ক্লাব।

অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানো ও জুয়া খেলার দায়ে রাজধানীর মতিঝিলের আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের আড়ালে এক শ্রেণির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এসব ক্লাববে চালিয়ে আসছিল অবৈধ মাদক ও ক্যাসিনোর ব্যবসা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বলছে, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনলঙ্ঘন করে এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণির লোক। র‌্যাব বলছে, অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত কাউকে ছাড় নয়।

প্রায় দুই ঘণ্টার এই অভিযানে ক্লাবগুলো থেকে ক্যাসিনো বোর্ডের পাশাপাশি তাস খেলার সামগ্রী, জুয়ার বোর্ড ও মাদকদ্রব্য (মদ, সিসা) উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বেলা তিনটা থেকে এই অভিযান শুরু করে পুলিশের মতিঝিল বিভাগ।

মতিঝিল বিভাগের ডিসি আনোয়ার হোসেন এবং মতিঝিল জোনের এডিসি শিবলি নোমানের নেতৃত্বে পৃথকভাবে ক্লাবগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। রোববার বিকেল ৩টার দিকে ডিসি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ভিক্টোরিয়া ও মোহামেডান ক্লাব এবং এডিসি শিবলি নোমানের নেতৃত্বে আরামবাগ ও দিলকুশা ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ।

ডিসি আনোয়ার হোসেন পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ক্যাসিনো বন্ধ করার জন্যই আমাদের এই অভিযান। চারটি ক্লাবে অভিযান হয়েছে। সেখান থেকে ক্যাসিনোর সামগ্রী, টাকা ও মদ উদ্ধার করা হয়েছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, ক্যাসিনো মালিক ও এর সঙ্গে জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের ছাড় নেই। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। রাজধানীতে জুয়ার আসর বসতে দেয়া হবে না। র‌্যাব অভিযান শুরু করেছে পুলিশও অভিযান চালাবে।

সেসময় তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে একটি জোনের তালিকা আমি পেয়েছি। অন্য জোনের তালিকাও করা হচ্ছে। র‌্যাব যেমন অভিযান শুরু করেছে তেমনি পুলিশের ভূমিকাও একই রকম। ক্যাসিনোতে যারা জুয়া খেলতে আসেন তারাই মাদক সেবন করছেন। ক্যাসিনো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সেখানে মাদক সেবনও বন্ধ হবে।

এএস