প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে চলমান কর্মসূচির অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ কর্মসূচির অনুকূলে অতিরিক্ত ১২ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তি হতে যাচ্ছে সোমবার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ হয় ৯৩৬ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা)। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩) বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন এবং এডিবির আবাসিক প্রধান কাজুহিকো হিগুচি।

এ বিষয়ে এডিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইআরডির যুগ্ম-সচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘উন্নয়ন সহযোগীরা কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সন্তুষ্ট হয়েছে বলেই তারা অতিরিক্ত অর্থায়ন করছে। বিশ্বব্যাংক ও অতিরিক্ত অর্থ দিচ্ছে।’

ইআরডি সূত্র জানায়, গত বছরের শেষ দিকে এডিবির একটি মিশন বাংলাদেশ সফর করেছিল। ওই সময়ই অতিরিক্ত অর্থায়নের বিষয়ে ইআরডির সঙ্গে সম্মতি প্রকাশ করেছিল। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে এডিবি সন্তুষ্ট হয়েছে বলেই অর্থায়ন করছে। এডিবির এ অর্থ পরিশোধের সময়সীমা ২৫ বছর।

সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়াতে ২০১১-এ কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। দাতাগোষ্ঠীর সহায়তানির্ভর মেগা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ২২ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়নের শুরুতেই বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করেছিল প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং এডিবি অর্থায়ন করেছিল প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও অর্থায়নে সহায়তা করেছিল ডিএফআইডিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, পিউডিপি-৩ কর্মসূচির অধীনে দেশব্যাপী ৩ হাজার ৬৮৫টি শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ, ২ হাজার ৭০৯টি বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণ, একজন শিক্ষকের অনুকূলে ৪০ জন ছাত্রের সমন্বয় তথা অনুপাত ১:৪০-তে নামিয়ে আনা, ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৫৫টি টয়লেট স্থাপন, ৪৯ হাজার ৩০০টি নলকূপ, ৫৩ হাজার ৭৫০টি প্রস্রাবখানা নির্মাণ, ১১ হাজার ৬০০টি শ্রেণীকক্ষ মেরামত ও জেলা উপজেলায় রিসোর্স সেন্টার করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলমান কর্মসূচিতে অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে ১ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে স্কুলমুখী করা, মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। আরও বেশি সংখ্যক শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনা ছাড়াও এ কর্মসূচির অধীনে বিশেষ করে অনগ্রসর এলাকাসমূহে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে স্কুলের সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোর মানোন্নয়ন করা হবে। এর বাইরে এ প্রকল্পের আওতায় মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ ও শূন্যপদ পূরণের নিশ্চয়তা বিধানে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষা বছরের প্রথম মাসেই ৯০ শতাংশ স্কুলে পাঠ্যবই বিতরণ নিশ্চিত করারও লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হবে।

এএইচ