ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ছাত্রসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এর মধ্যে জেলার কয়রা থানা পুলিশ অস্ত্র, গুলি ও বোমা সদৃশ বস্তুসহ ৪ জঙ্গি সদস্যকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, বুধবার ভোরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. রবিউল হাসান ইমনকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে।

খানজাহান আলী থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইমনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ পেয়েই তাকে আটক করা হয়েছে। তবে কুয়েট উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি আরও অধিক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরপরই তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাসে সন্দেহজনক ঘোরাঘুরির অভিযোগে মো. আরজ আলী (২৫) নামে এক কলেজছাত্রকে নিরাপত্তাকর্মীরা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

আটককৃত যুবক নিজেকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহসভাপতি এবং কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ সম্মান শেষবর্ষের ছাত্র বলে দাবি করেন। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখারী উপজেলার ধলাগ্রামের মৃত মো. আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে।

খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল আলম জানান, দুই ছাত্রের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বুধবার ভোর রাতে কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের কারিকরপাড়া এলাকার ইদ্রিসের বাড়িতে জঙ্গিরা নাশকতার পরিকল্পনা করছে, এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

এ সময় কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর মাইলবগা গ্রামের আনছার শেখের ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে জুবায়ের (২৮), ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিমিল গ্রামের রাজ্জাক গাজীর ছেলে রাজীর গাজী ওরফে রাকিব (২৩), পাইকগাছা উপজেলার খাটুয়াখালি গ্রামের মাহফুজুল হকের ছেলে ফয়সাল ওরফে আলামিন (২৪) এবং রহমত সরদারের ছেলে তানভীর সরদার (২৪) নামে চার যুবককে আটক করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি দেশি শর্টগান, ৩ রাউন্ড বন্দুকের কার্তুজ, ১টি বন্ধুকের গুলির খোসা এবং ৫টি বোমাসদৃশ বস্তুসহ কয়েকটি জিহাদি বই উদ্ধার করে।

কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শমসের আলী জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও নাশকতার অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এফএফ