মুক্তিযুদ্ধকালীন ৯ নং সেক্টরের (সুন্দরবন অঞ্চল) সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন আহমেদ অবহেলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার প্রতি রাষ্ট্র যে দায়িত্ব পালন করার কথা তা করা হয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। দাবি উঠেছে মরণোত্তর হলেও যেন তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় অতিথিদের বক্তব্যে এসব কথা উঠে আসে।
‘সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১’ এই স্মরণসভার আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, জিয়াউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৬৯ সালে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন তিনি মেজর পদে উন্নীত হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সরাসরি ৯ নম্বর সেক্টরে মেজর এম এ জলিলের অধীনে একজন সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যোগ দেন। অথচ রিটায়ার্ড অফিসার্স আর্মি ক্লাব কর্তৃক প্রকাশিত (রাওয়া) তালিকায় উনার নাম নেই, এটা অত্যন্ত দু:খজনক।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৪ সালে ক্ষুদ্র একটি কারণে লেফটেন্যান্ট থাকা অবস্থায় তিনি চাকরিচ্যুত হন। এর পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁকে সেনাবাহিনী থেকে কোন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি। তারা বলেন, এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত কোন প্লটও তাকে দেওয়া হয়নি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আজ অনেকে ভূয়া সার্টিফিকেট নিয়ে অনেক কিছু আদায় করছে, অথচ সঠিক মুক্তিযোদ্ধারা বঞ্চিত।
সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী বলেন, আজ কু-রাজনীতির জন্য অনেক কিছু করেও তিনি কিছু পাননি। অনেকে পাচ্ছেনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা নবম সেক্টরের সেক্রেটারি সচিন কর্মকার বলেন, আজ চেতনা নিয়ে মায়া কান্না করার লোকের অভাব নেই, অথচ গুনিজনদের আজ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছেনা। রাষ্ট্র যে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, তা করা হয়নি। তিনি বলেন, ক্ষমতার পরিবর্তন হবে তাই বলে কি এই সূর্য্য সন্তানদের মূল্যায়ন হবে না?
বক্তাদের প্রত্যেকেই তার প্রশংসা করে বলেন, তিনি ছিলেন সত্যিকার দেশপ্রেমিক, উদার মনের অধিকারী, নিরহংকারী, মিতব্যয়ী, মৃদুভাষী, সাহসী এবং ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। তারা বলেন, জিয়াউদ্দিন এবং সুন্দরবন এক ও অভিন্ন, যতদিন সুন্দরবন থাকবে ততদিন জিয়াউদ্দিনের নাম থাকবে।
বক্তরা সবাই তার মরণোত্তর খেতাব দাবি করেন। তারা জিয়াউদ্দিনকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবি জানান।
সেক্টরস্ কমান্ডার ফোরামের সেক্রেটারি হারুন হাবিব বলেন, জিয়াউদ্দিনের জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যত প্রজন্মকে তাকে জানার সুযোগ দিতে হবে। একইসাথে তার নামে একটি রাস্তা করার উদ্যোগ নেয়া এবং তার প্রাপ্য সকল পাওনা তার পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন।
সেক্টরস্ কমান্ডার ফোরামের সভাপতি কে এম সফিউল্লাহর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন, ফোরামের সহ-সভাপতি নুরুল আলম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক হারুণ হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজর মোহাম্মদ আলী শিকদার, এড. সরদার আব্দুর রশিদ, সচিন কর্মকার, জিয়াউদ্দিনের ছেলে জাহিদ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
কেবি





