সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে তাদের। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পেতে আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দিতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে অর্থ বিভাগের আদেশ জারি এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
দেশে বর্তমানে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও সুবিধার আওতায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার একটি অংশ সরকার নিয়মিত অনুদান হিসেবে দেয়। এ ব্যবস্থার নাম এমপিও বা মান্থলি পে অর্ডার। এর আওতায় শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের শতভাগ পাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতাসহ নির্ধারিত কিছু ভাতাও পেয়ে থাকেন।
গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে তারা মাসে এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেতেন। তবে যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় বেশি, সেগুলো এমপিওর বাইরেও শিক্ষক–কর্মচারীদের অতিরিক্ত অর্থ দেয়। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের সেই আর্থিক সক্ষমতা নেই। ফলে সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়া বাড়বে। স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্তর এবং বিষয়ভেদে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে ভিন্নতা রয়েছে। নতুন কাঠামোয় তারা বর্তমানে যে গ্রেডে চাকরি করছেন, সেই অনুযায়ী বেতন পাবেন।
অর্থ বিভাগের এক অতিরিক্ত সচিব গণমাধ্যমকে বলেন, কবে আদেশটি হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ এটি একটি প্রক্রিয়ার বিষয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা যাতে দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন–ভাতা পেতে পারেন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এনএইচ











