দীর্ঘ ১৯ মাস মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করে অবশেষে হার মেনেছেন আরেক পোশাককর্মী কহিনুর ইসলাম কাজল (৪৫)। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।

কহিনুর ইসলাম কাজল ঢাকার ধামরাইয়ের শরীফবাগ এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১২৭ জনে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছিলেন কহিনুর ইসলাম। এরপর থেকেই সাভারের সিআরপি হাসপাতালে দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

নিহতের স্ত্রী সালেহা বেগম ও পারিবারের লোকজন জানান, রানা প্লাজার ইথারটেক্স গার্মেন্টেসে চতুর্থ তলায় অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন কাজল। ভবন ধসের দ্বিতীয় দিন উদ্ধার কর্মীরা তাকে বের করে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। পরে সেখান থেকে তাকে সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) হস্তান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে চলিত মাসের ৯ নভেম্বর ঢাকার হৃদরোগ হাসপাতাল সোরওয়ার্দীতে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে কাজলের মরদেহ গ্রামের বাড়ি ধামরাইয়ের শরীফবাগে নিয়ে যাওয়া হলে শত শত লোক ও সহকর্মীরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে ছুটে আসে। স্বজনের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে শরীফগ্রামের বাতাস।

সালেহা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়ার পর তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে মাত্র ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়। আর বেসরকারিভাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে ৫০ হাজার টাকা পান তিনি। এছাড়া আর কোনো সহযোগিতা করা হয়নি তাকে। তার স্বামী বুকে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন। রানা প্লাজার মৃত্যুকুপ থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও বুকের ব্যথায় মাঝে মধ্যে হাউ মাউ করে কাঁদতেন। গ্রামের জায়গা বিক্রি করে কিছু দিন তার উন্নত চিকিৎসা করাতে পেরেছিলাম। তবে সরকারি সহযোগিতায় যদি তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হতো তাহলে এভাবে তার মৃত্যু হতো না।

বুধবার দুপুরে নিহত শ্রমিকের গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

জেআই