খুলনা অঞ্চলের রাষ্টায়ত্ত ৯ পাটকলের শ্রমিকরা আমরণ অনশন শুরু করেছেন।
মজুরি পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে গতকাল বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া শ্রমিকদের অনশন আজ (১১ ডিসেম্বর) বুধবার সকালেও তা অব্যাহত রয়েছে। শ্রমিকরা শীতের রাতে তাঁবু টাঙিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে অনশনে সাত শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অনশনে থাকা আরো অনেকেই অসুস্থতা বোধ করছেন।
অসুস্থ শ্রমিকরা হলেন- প্লাটিনাম জুট মিলের হিরন ও খায়ের এবং স্টার জুটমিলের বাবুল ও ক্রিসেন্ট জুটমিলের সুলতান। অন্য তিন শ্রমিকের পরিচয় জানা যায়নি।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকা কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম, জেজেআই ও কার্পেটিং মিলের শ্রমিকরা নিজ নিজ পাটকলের উৎপাদন বন্ধ রেখে মিলের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি পালন করছেন। এছাড়া যশোরে দুটি পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।
শ্রমিকরা জানান, নিয়মিত মজুরি না পাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, ঘরভাড়া দিতে না পারা– এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। তারা জানান, সব সেক্টরে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হলেও পাটকল শ্রমিকদের বেলায় অনীহা প্রকাশ করা হচ্ছে। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও পিপিপি বাতিলসহ ১১ দফা দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের সাবেক সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ বন্ধ রেখে অনশন পালন করছেন। ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক খলিলুর রহমান জানান, প্রচণ্ড শীত ও ক্ষুধার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সমস্যা সমাধানে ঢাকায় মঙ্গলবার বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ না হওয়ায় শ্রমিকরা অনশন অব্যাহত রেখেছেন। যতই কষ্ট হোক, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে।
এমবি





