হাতি দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে হাতি ও হাতির মাহুত নূর ইসলামকে আটক করেছে রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।
শনিবার হাতির মাহুত ও হাতিটিকে আটক করা হয়। এরপর হাতিটিকে রাজশাহীর পবা নার্সারি কেন্দ্রে বেধে রাখা হয়েছ।
নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর থেকে হাতি ও এর মাহুতকে আটক করে শনিবার সকালে ট্রাকে করে রাজশাহীতে নিয়ে আসা হয়।
রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্যা রেজাউল করিম জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজশাহী থেকে মহাদেবপুরে ফরেস্টার আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টহল টিম পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, সে টহল টিম মহাদেবপুর থানার পুলিশের সহযোগিতায় হাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে হাতির মাহুত নূর ইসলাম ও হাতিটিকে আটক করে।
তিনি বলেন, হাতির মাহুতের কাছে হাতির কোনো লাইসেন্স বা পারমিট পাওয়া যায়নি। এতে অভিযোগ আরো শক্ত হয়। এ পরে হাতিটিকে ট্রাকে করে রাজশাহী নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজশাহীতে পবা নার্সারি কেন্দ্রে রাখা হাতিটিকে বেধে রাখা হয়েছে। আর হাতির মাহুত নূর ইসলামকেও সেখানে আটক রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জানা যায়, আটক নূর হোসেনের বাড়ি বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকায়।
এদিকে হাতির মাহুত নূর ইসলাম জানিয়েছেন, হাতির প্রকৃত মালিক মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার আতিকুর রহমান। তারা কেবল হাতিটি ভাড়া এনে মালিক পরিচয়ে রেখেছেন।
তিনি জানান, মৌলভীবাজারের ওই মালিকের কাছ থেকে বগুড়ার কাহালু উপজেলার মামুনুর রশিদ হাতিটি সার্কাসের কথা বলে ভাড়ায় নিয়ে আসেন। কিন্তু সার্কাসের বদলে ওই হাতি দিয়ে মহাদেবপুরে চাঁদাবাজি করতেন মামুনুর রশিদ।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২-এর ধারা ৩৬ (২) অনুযায়ী হাতি ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, স্থানান্তর, ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়ে ওই আইনের ধারা ১০-এর অধীনে পারমিট গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কিন্তু এ হাতির বহনকারী নূর ইসলাম কোনো পারমিট দেখাতে সক্ষম পারেননি। আর বিষয়টি অবৈধ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঢাকা, ৩০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





