কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর কয়া গ্রামের আলোকিত মানুষ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত নাসির উদ্দিন মাষ্টার। যেন একটি জিবন্ত ইতিহাস ।জীবনের শেষ অর্জনটা দিয়ে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালিয়ে নাসির মাষ্টারের বাড়ি এখন শিশু শিক্ষানিকেতন।
নিজের পেনশনের টাকা দিয়ে গড়ে তুলেছেন শিশুদের শিক্ষা ও বিনোদনকেন্দ্র, পাখিদের অভয়াশ্রম, ঔষধি গাছের চারা , ফলজ,বনজ,বৃক্ষ ইত্যাদিধরণের গাছ। পাঠাগার ও পুরাতন তথ্যবহুল পেপার কাটিং এবং মনিষীদের বাণী ইত্যাদি সংগ্রহশালা কয়া গ্রামের নাসির উদ্দিনের বাড়িতে।
১৯৬৯ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৭ সালে অবসর গ্রহাণের পর নাসির মাষ্টার নিজ হাতে গড়ে তোলেন এই শিশুস্বর্গ। নাসির মাস্টার তাঁর মায়ের নামে করা কুলছুম নেছা পাঠাগার।
প্রায় দশ বছর আগে তিনি শিশুদের জন্য নিজের বসতবাড়ির আঙ্গিনায় গড়ে তুলেছেন একটি শিশুতোষ বিনোদন কেন্দ্র। এলাকার মানুষের কাছে জ্ঞানের বাগান হিসেবে পরিচিত। ওই বাগানে রয়েছে হরেক রকমের ফুল-ফল আর ঔষধি গাছ। প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি এই বাগানের গাছের পরিচর্যা করে আসছেন বলে জানান , নাসির মাষ্টারের সহধর্মীনি মরিয়ম বেগম।
এই বাগানেই শিশুরা খেলা করে আর নানা ধরণের বই পড়ে। শিশুদেরকে গাছের সাথে পরিচিত করতে কাগজে নাম লিখে লেমিনেটিং করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে প্রতিটি গাছের গায়ে। যাতে শিশুরা গাছ সহজে চিনতে পারে। এ ছাড়াও গুণী মনীষীদের বাণী কাগজে লিখে লেমিনেটিং করে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছেন গাছে গাছে।
দেশীয় নানা প্রজাতির পাখির সাথে শিশুদের পরিচিতি ঘটাতে বাগানের বড় গাছগুলোতে পাখিদের বাসা বানানোর জন্য হাঁড়ি ঝুলিয়ে রেখেছেন। বর্তমানে শুধু এলাকার মানুষই নয়, দূর-দূরান্তের অনেকেয় প্রয়োজনে ছুটে যান নাসির মাষ্টারের বিনোদন বাগানে ।
নাসির মাস্টার বহু পুরাতন পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ও প্রবন্ধের কার্টিং সংরক্ষণ করে রেখেছেন। যার মধ্যে রয়েছে গুণী মনীষীদের জীবনীসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সমূহ। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহের ফাইলগুলো সর্বস্তরের মানুষের জন্যে উন্মুক্ত করে রেখেছেন তিনি।বসতবাড়ির পাঠাগারটিতে বইয়ের পাশাপাশি রয়েছে বিশ্ব বিখ্যাত গুণী ব্যক্তিদের তথ্য ও ছবি ।
১৯৪৬ সালে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নাসির উদ্দিন। দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করাকালীন সময়েই তিনি নিজের গ্রামে শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্যে বন্ধুদের সাথে নিয়ে নৈশ্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেখানে এলাকার বিভিন্ন বয়সের অশিক্ষিত মানুষকে মৌলিক বর্ণমালা শিক্ষা দান করতেন।
এখনো তিনি কাঁধে ঝোলানো লম্বা ফিতার ব্যাগের মধ্যে স্লেট এবং চক নিয়ে ঘুরে বেড়ান অশিক্ষিত মানুষের ঘরে ঘরে। নাসির মাষ্টার জানান, এই কাজে সহযোগিতা করেন সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটির বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রকিবুল হাসান ও মিলন হাসান সহ গ্রামের কিছু ব্যাক্তিরা।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করেন সরকারী-বেসকারী সহোযোগীতা পেলে নাসির মাস্টার দেশ ও জাতিকে আরো ভালো কিছু উপহার দিতে পারবেন। প্রচারবিমুখ এই কৃতিসন্তানকে রাষ্ট্রীয় ভাবে মূল্যায়ান করার দাবী জানান ।
নাজিব





