রাষ্ট্রীয়  প্রটোকল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং জানাজাও পেলেন না,ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন। ৫২'র সাড়াজাগানো  ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন মৃত্যুর পর জানাজা পাবার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ একজন মুসলমান হিসেবে মৃত্যুর পর জানাজা পাবার অধিকার তার রয়েছে।

ইতিপূর্বে ১৯৮৭ সালে সিপিবির'নেতা কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদকে জানাজা দেয়া হয়। এ ধরনের আরো অনেক রাজনীতিবিদ বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের মৃত্যুর পর জানাজা দেয়ার নজির রয়েছে।

কিন্ত এখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনকে কেন জানাজা ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়েছে ? আবদুল মতিন কি লিখিত ভাবে জানাজা ছাড়াই তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গবেষণার জন্য হস্তান্তর করতে অনুমতি দিয়ে গেছেন ? এ ধরনের  আরো নানা প্রশ্ন উঠেছে ।  

জানা যায়, ৫২'র মহান ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী (ভাষা সৈনিক) আবদুল মতিন একজন মুসলমান। ভাগ্যক্রমে তিনি ওইসময় পাকিস্তানি স্বৈর শাসকদের বুলেটের গুলিতে শহীদ না হয়ে গাজী হিসেবে বেচেঁ যান। এরপর তিনি খেতাব পান ভাষা সৈনিক। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাস আসলেই তাকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় টানাটানি শুরু হতো। তবে তার মৃত্যুর পর শুধু ফুলের শুভেচ্ছ, শোকবাণী,শ্রদ্বা নিবেদনই কি তার শেষ প্রাপ্য।

এদিকে গতকাল  বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা মতিনের লাশ (মরদেহে) শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন,রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অভাবে  মতিনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হয়নি।


সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অভাব ছিল। তাই তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া যায়নি। তবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া না হলেও তার মরদেহের প্রতি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও সরকারের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হয়েছে।


তিনি আরো বলেন,ভাষাসৈনিক মতিন রাষ্ট্রের সম্পদ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব আন্দোলনে মতিনের অবদান রাষ্ট্র ও জনগণ কখনো ভুলবে না। সরকারের পক্ষ থেকে আবদুল মতিনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।


একে