গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পুলিশের মাইক্রোবাস থেকে হাতকড়াসহ পালানোর সময় ট্রাকচাপায় আসামি রিপন চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোপীনাথপুর এলাকায় শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
আসামি নিহতের ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার এক এসআইসহ চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে তাদের জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান শুক্রবার রাত একটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ক্লোজ করা চার পুলিশ সদস্য হলেন- সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই রাজু আহম্মেদ, কনস্টেবল শাহানুর রহমান, মোস্তাফিজার রহমান ও নারী কনস্টেবল নার্গিস বেগম। এছাড়া ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ-আল ফারুককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল রিপন চন্দ্র একই এলাকার চম্পা রানী নামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিয়ে উধাও হয়। এই ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা সুরেশ চন্দ্র দাশ বাদী হয়ে থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে কিশোরীকে উদ্ধার এবং রিপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া জেলার কাহালু পৌর শহরে রিপনের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার ও রিপন চন্দ্রকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বিকেলে উভয়কে মাইক্রোবাসযোগে সুন্দরগঞ্জে আনা হচ্ছিল।
পথে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছলে রিপন চন্দ্র প্রাকৃতিক কর্ম করার কথা বলে মাইক্রোবাসটি থামায়। এসময় সে মাইক্রোবাস থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টার সময় একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।
এদিকে শুক্রবার দিনভর রিপনের মরদেহ তার পরিবার গ্রহণ করেনি। তার পরিবারের অভিযোগ, চম্পা রানীর পরিবারের লোকজনের সাথে যোগসাজশ করে রিপনকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
অপরদিকে রিপনের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে হাতিয়া গ্রামের বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অপহৃত স্কুলছাত্রীর বাবার ঘরবাড়ি ভাংচুর ও দোকানে অগ্নিসংযোগ করে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। রিপনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
রুবেল/জেড





