কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) বাংলাদেশকে।
প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। শূন্য দশমিক এক শতাংশ সুদে ত্রিশ বছরের জন্য এই ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। ঋণের টাকায় মাতারবাড়িতে ৬০০ মেগাওয়াট করে দুইটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং কয়লা খালাসের জন্য বন্দর নির্মাণ করা হবে।
সূত্র জানিয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মোকাবেলা ও গ্যাস নির্ভরতা কমাতে সরকার কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়। আমদানিকৃত হাজার হাজার টন কয়লা উক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে। এতে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।
কখনো গ্যাস পাওয়া না গেলেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হবে। মহেশখালীর মাতারবাড়িতে উক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়। কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) নামের একটি কোম্পানি গঠন করে সরকার প্রকল্পটি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে সরকার চীনের সাথে আলোচনা করছিল। চীন গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করারও আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম হাতে নিয়ে সরকার জাপানের সাথে যোগাযোগ করে। জাপান ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
সূত্র জানায়, মহেশখালির মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নে ৬০০ মেগাওয়াট করে ১২০০ মেগাওয়াটের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সর্বাধুনিক প্রযুুক্তির ব্যবহার করা হবে। যেখানে পানি গরম ও ঠাণ্ডা করার জন্য সমুদ্রের উপরিভাগের পানি ব্যবহার করা হবে। এ কেন্দ্রের কর্মদক্ষতা হবে ৪১ দশমিক ৯৯ ভাগ, যা দেশের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের গড় কর্মদক্ষতা (৩৪ শতাংশ) থেকে ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি। মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রই দেশের সবচেয়ে আধুনিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এখান থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ ন্যাশনাল গ্রিডে সরবরাহ দেয়া হবে। যা চট্টগ্রাম ও সন্নিহিত অঞ্চলের বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, অত্যাধুনিক এই প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এরমধ্যে জাপানের জাইকা ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে প্রদান করবে। বাকি টাকার মধ্যে ৪ হাজার ৯২৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সরকারি খাত থেকে এবং বাকি ২ হাজার ১১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে।
প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেলে আনুপাতিক হারে অর্থের যোগান নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জাইকার অর্থ পরিশোধ করতে ৩০ বছর সময় দেয়া হবে। এই ঋণের সুদের হার ০.১ শতাংশ। অত্যন্ত সহনীয় এই শর্ত ও সুদ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে সরকার অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে। একই কেন্দ্র থেকে বারোশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসলে আমাদের বহু সংকটেরই সুরাহা হবে। এছাড়া ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা জরুরি।
দৈনিক আযাদীর সৌজন্যে/এমএ





