দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলা সদরের পুরাতন বাজারে প্রতি বছরের মত এবারও ঢাক-ঢুলির হাট বসেছে।

৫শ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ হাট শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা পর্ব মহালয়ার দিন থেকে ষষ্ঠির দিন পর্যন্ত চলে। ঢাক-ঢুলির এ হাট প্রতিবছর সারাদেশে সাড়া ফেলে। বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢাক বাদকরা এই হাটে এসে গ্রাহক পাওয়ার জন্য তাদের নিজস্ব অঙ্গভঙ্গিতে নৃত্যের তালে তালে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা চালান। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, কোন একটি পূজো ম-পে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জড়িয়ে থাকা।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক বাদ্যযন্ত্রী এখানে আসেন। দুর্গাপূজার আয়োজকরা এই হাট থেকে বায়না দিয়ে বাদ্যযন্ত্রীদের নিয়ে যান। বিক্রমপুর ভাটি অঞ্চল, কুমিল্লা হাওর অঞ্চল থেকে শত শত বাদ্যযন্ত্র এ হাটে আসে।

ঢাক-ঢোল, সানাই, বিভিন্ন ধরনের বাঁশি, কাঁশীসহ বাদ্যযন্ত্রের পসরা বসে এখানে। নেচে নেচে ও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গীতে বাদ্যযন্ত্রীরা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে থাকেন। সাধারণত একটি ঢাক ১০ হাজার, ঢোল ৫ হাজার, বাঁশি প্রকারভেদে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ব্যান্ডপার্টি ছোট ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার এবং বড় ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় ভাড়া হয়ে থাকে। বাদ্যযন্ত্রীরা পূজাম-পে বাজনা বাজিয়ে দর্শক ও ভক্তদের আকৃষ্ট করে থাকেন।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর এই হাট বসলেও এখানে আগতদের জন্য নির্দিষ্ট কোন স্থান নেই। ফলে নানা সমস্যায় ভুগতে হয় তাদের। এছাড়া কটিয়াদীতে সকল দুর্গা প্রতিমা একত্রে একটি নির্দিষ্ট স্থানে আরতি দিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। কিন্তু এর জন্য কোন নিজস্ব ভূমি নেই। কটিয়াদী ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিসর্জন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়ে থাকে।

জেআই,