বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার পুটখালী সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পারাপারের সময় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি-২৩) সদস্যরা।
শুক্রবার রাত ১১টায় সীমান্ত পারাপারের সময় তাদের আটক করা হয়। তবে পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো দালালকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- যশোর জেলার কেশবপুরের শুকলাকাঠি গ্রামের বাহাদুল মোড়লের স্ত্রী সাজেদা বেগম (২৮), শিশু রোকসনা (০৮), অদুত সরদারের স্ত্রী পাপিয়া (৩০), ছেলে আবির (০২), কেশবপুরের কালিচরনপুর গ্রামের বিধান রায়ের স্ত্রী নিলিমা (২৯), ছেলে বিজয় (০৯), মাগুরার শ্রীপুর আমুলসার গ্রামের আরশিষ বিশ্বাস (৫৪), মেহেরপুরের গাংনী চান্দ্রীমারী গ্রামের আবু সায়েদেরমেয়ে সালমা আক্তার (১৮), কালিয়া পদুমা গ্রামের মানু শেখের স্ত্রী পিয়ারী (৩৬), নড়াইলের বিছালী গ্রামের ইমলাক মোল্লার মেয়ে পুতুল খাতুন (১৮), নড়াগাতি যুগানিয়া গ্রামের পেরমত সরকারের ছেলে কমল সরকার (৩৫) ও কুষ্টিয়ার মিরপুর আমলা সদর গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে বনি (১৮)।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত পথে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ পারাপার হচ্ছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সেখানে অভিযান চালায়। পরে পুটখালীর সীমান্ত থেকে ১২জন বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করা হয়।
এসময় পাচারকারীরা বিজিবি সদস্যদের দেখে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসা, ব্যবসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এরা সীমান্ত পারাপার হচ্ছিল বলে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) অপূর্ব হাসান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যক্তিদের অবৈধ পারাপার আইনে মামলা দিয়ে শনিবার দুপুরে যশোর আদালতে পাঠানো হবে।
এদিকে, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে পাচারকারীদের অবৈধ সখ্যতা থাকায় কোনো ভাবে এ সীমান্তে অবৈধ পারাপার ও নারী, শিশু পাচার বন্ধ হচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, একজন সাধারণ মানুষ যখন সীমান্ত এলাকার কোনো আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে আসে, তখন যশোরসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসন থেকে শুরু করে পাচার সিন্ডিকেটের কাছে তাদের কৈফিয়েতের সম্মুখিন হতে হয়। অথচ যখন অবৈধ পারাপারের জন্য চুক্তির মাধ্যমে সীমান্তে আসে তখন তাদের কেউ ডেকে জিজ্ঞাসা করে না। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে।
বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা আন্তরিক হলেই নারী,শিশু পাচার ও অবৈধ পারাপার বন্ধ সম্ভব বলে জানান তারা ।
কেএইচ





