টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ভোগাই নদীর শিমূলতলা ও খালভাঙ্গা এলাকায় বাঁধ ভেঙে পৌরসভাসহ পাঁচটি ইউনিয়নের চার হাজার দুইশ হেক্টর আমন আবাদ এখনও পানির নিচে।

উপজেলা প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জানান, উপজেলায় শনিবার থেকে শুরু হওয়া টানাবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পৌরসভাসহ নালিতাবাড়ী, কলসপাড়, বাঘবেড়, যোগানিয়া ও মরিচপুরান ইউনিয়নে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জসির আমন আবাদ পানির নিচে তলিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত পৌরসভাসহ পাঁচটি ইউনিয়নে দুই একদিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ৬০ ভাগ আমন ধানের চারা রক্ষা পেলেও ৪০ ভাগ ক্ষতি হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলার ভোগাইর পাড় এলাকার প্রান্তিক কৃষক সোলাইমান হোসেন বলেন,‘আমার দুই একর জমিত ধানের থোর আইছিলো,হঠাৎ কইরা গাঙ্গের বানডা(নদীর বাধ) ভাইঙ্গা গিয়া পাচঁ দিন ধইরা খেতটা পানির নিচে ডুইবা আছে। আমার যে কি অইব অহন কি করমু বুঝবার পাইতাছি না।

মরিচপুরান এলাকার গৃহিনী মনিরা মোস্তফা বলেন, পাচঁদিন আগে‘রাইতে হঠাৎ ঘরে পানি আইছে, তাড়াতাড়ি কইরা সবকিছু চকির ওপরে তোলাই হালাইছি। চুলায় পানির নিচে ডুবাইয় থাহুনে রান্দা বাড়া বন্ধ আছে। পানি না কমা পর্যন্ত কোনো উপায় নাই।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.শরিফ ইকবাল জানান, নালিতাবাড়ীতে ঢলের পানি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে প্রায় চার হাজার আড়াইশ হেক্টর জমির আমন ধানের চারা পানির নিচে রয়েছে। আজ কালের মধ্যে পানি সরে গেলে ষাট ভাগ ফসল রক্ষা পাবে। কিন্তু চল্লিশ ভাগ ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবু সাঈদ মোল্লা বলেন, পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে আমন আবাদ,পুকুরের মাছ, মাটির ঘর-বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপণের কাজ চলছে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই