বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আমেরিকা ও কানাডার সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকবার তাদের সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি। আইনগতভাবেও আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। খুনীদের ওপর ইন্টারপোলের ওয়ারেন্ট জারি করা আছে।

কিন্তু যে কারণেই হোক আমরা তাদের ফেরত আনতে সে সব দেশের সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছি না, এটাই হল বাস্তবতা।’

দশম সংসদের সপ্তম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরপর্বে বুধবার সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনীদের মধ্যে দুই জন আমেরিকায়, একজন কানাডায়, কর্নেল রশীদ ও ডালিম পাকিস্তানে আছে। বাকি দুই জন যে কোথায় আছে এখনো তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, সভ্য ও উন্নত দেশ হয়েও এই খুনীদের আশ্রয় দেওয়া বা খুনীদের সেখানে রাখা এটা আমেরিকা-কানাডার মতো দেশ করে- আমার জানা নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যারা বাংলাদেশে ছিল তাদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। একজন খুনী ব্যংককে ছিল। তাকে সেখান থেকে এনে রায় কার্যকর করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে সেই ’৯৬ সাল থেকে আমরা কমিটি গঠন করেছি। আইনজীবী নিয়োগ করেছি। এমনকি আমেরিকায় আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, কানাডাতেও। আমরা বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। কারণ খুনী খুনীই। যেখানেই থাকুক তারা খুনী। কাজেই খুনীদের বিচারের রাযের মুখোমুখি করা এবং কার্যকর করা এটা আমাদের কর্তব্য। আমরা সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বিচার হবে না এ ধরনের কথা খুনীরা অত্যন্ত গর্ব করে বলেছিল। কিন্তু সেই বিচার আমরা করেছি। পৃথিবীতে বোধ হয় একটি ঘটনাই ঘটেছে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডে খুনীদের বিচার। সেটাও আবার সাধারণ আইনে। আমি প্রধানমন্ত্রী হয়ে কিন্তু কোনো বিশেষ আইনে করিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুনীদের দুই জন পাকিস্তানে আছে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার স্বীকার করে না। তবে আমরা কিছু কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে জানি।’

একটি চ্যানেলে কর্নেল রশীদের সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার মানে সে জানে খুনী রশীদ কোথায়। এটা বোঝা যায় যে, খুনী রশীদ লিবিয়াতে ছিল, বর্তমানে পাকিস্তানেই আছে। ডালিমও পাকিস্তানেই আছে। কিন্তু তাদের খোঁজ করার ক্ষেত্রে আমরা পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। এটা দেশবাসীর জানা উচিত।’

পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুস্তুম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গবেষণালব্ধ তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীর ওপর চলচ্চিত্র ও প্রমাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ অচিরেই গ্রহণ করা হবে।’

এএইচ