এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আমি কোনো সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জায়গা-জমি দখল করিনি। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যারা এ সব করছে তাদের বিচার উপরওয়ালা একদিন করবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।’
সংবাদ সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে লেখার জন্য তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ সময় অনুরোধ করেন।
ফরিদপুরের উন্নয়ন শীর্ষক এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী শনিবার এ সব কথা বলেন।
ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত স্থানীয় অম্বিকা মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর মিয়া।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী, এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু প্রমুখ।
এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা হিন্দু বাড়ি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কারো জমি দখল করিনি। যার জমি তার কাছ থেকে আমি নগদ টাকায় কিনেছি। বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিয়েই আমি কিনেছি। প্রথমে আমি জমিটি কিনতে চাইনি। কিন্তু যার জমি সে আমার কাছে বারবার এসে বলেছে, জমিটি আমি না কিনলে প্রভাবশালীরা দখল করে নেবে। তাকে হত্যা করা হবে, নইলে জোরপূর্বক ভারতে পাঠিয়ে দেবে। জমিটি রক্ষা এবং তাকে বাঁচানোর অনুরোধ করে জমির মালিক। আমি তাকে বাঁচাতে গিয়েই জমিটি কিনেছি। এ সময় জমিটি কেনাবেচার সময় মধ্যস্থকারী ছিলেন এ্যাডভোকেট সুবল সাহা।’
সুবল সাহা বলেন, ‘আমিই জমির মালিকের বিপদ দেখে মন্ত্রী মহোদয়কে অনুরোধ করেছিলাম জমিটি ক্রয় করে সন্ত্রাসী জমি দখলকারীদের হাত থেকে তাকে যেন বাঁচানো হয়।’
মন্ত্রী উপস্থিত সকলের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমি জমিটি কিনে কি অন্যায় করেছি যে, আমার বিরুদ্ধে এতবড় একটি অপবাদ দেওয়া হল?’
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ ঢাকায় যে সংবাদ সম্মেলন করে তথ্য প্রচার করেছে তার নিন্দা জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ফরিদপুরের ঝিলটুলিতে রাজেন্দ্র কলেজ হিন্দু হোস্টেলের বিপরীতে অবস্থিত একটি বাড়ি দখল করে নিয়েছেন তিনি।
ওই বাড়িটির নাম দয়াময়ী আশ্রম যা ভাজনডাঙার জমিদার সতিশচন্দ্র গুহ মজুমদার-এর। যিনি রাজন্দ্র কলেজের উদ্যোক্তাদের অন্যতম।
বাড়িটি বর্তমানে অর্পিত সম্পত্তি, যা অনেক আগেই মোশাররফ সাহেব নিজেই করিয়ে রেখেছিলেন। বর্তমান অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাবর্তন আইন আংশিক কার্যকর হওয়ায় বাড়িটির বৈধ মালিক অরুণ বাবু।
বাড়িটি প্রায় ৩ একর জায়গা জুড়ে যার বর্তমান দাম কয়েক কোটি টাকা, যাতে একটি দ্বিতল পুরনো ভবন আর একটি পুরান মন্দির রয়েছে।
এএইচ





