এ্যাম্বুলেন্সে বসেই পরীক্ষা দিলেন পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা সাহিত্যের স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ছিল বুধবার। পরীক্ষা দিতেই হবে- এমন ইচ্ছা শক্তির কারণে সন্তান প্রসবের পরদিনছাত্রী রাজিয়া পারভীন (২৬)।
জেলা শহরের জালাসী এলাকার আবু আসাদ মোহাম্মদ আল আরিফের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম ছেলে সন্তান জন্ম দেন। গর্ভবতী অবস্থায় তিনি অন্য পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিয়েছিলেন।
শারীরিকভাবে দুর্বলতার কারণে কেন্দ্রপ্রধান কলেজের অধ্যক্ষ কানাই লাল কুণ্ড তাকে এ্যাম্বুলেন্সে বসে পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দেন।
স্বামী আবু আসাদ মোহাম্মদ আল আরিফ জানান, ২০১১ সালে দেবীগঞ্জ উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রমজান আলীর মেয়ে রাজিয়া সুলতানাকে বিয়ে করেন। মঙ্গলবার শহরের সিটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার স্ত্রী প্রথম সন্তানের জন্ম দেন।
তিনি বলেন, ‘নবজাতককে আমার শ্যালিকার কাছে রেখে রাজিয়া পরীক্ষায় অংশ নেন। পরিবারের অনেকেই তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে নিষেধ করলেও সে দমে যাননি। মানসিক ইচ্ছা শক্তির ফলে সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।’
পরীক্ষা শেষে রাজিয়া সুলতানা জানান, গর্ভে সন্তান নিয়ে সব পরীক্ষা দিয়েছি। একটা পরীক্ষাই বাকি ছিল। মা হওয়ার আনন্দের কারণে শারীরিক কষ্ট আমার ছিল না।
পঞ্চগড় মক্ববুল রহমান সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান এহতেশামুল হক ও পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কানাই লাল কুণ্ড জানান, শারীরিক দুর্বলতা থাকলেও রাজিয়া মানসিকভাবে পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তারা এ্যাম্বুলেন্সে পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দেন।
এমএ





