নদীখননে দেশের বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

আজ বুধবার দুপুরে নেদারল্যান্ডের রয়েল আইচসি ড্রেজার কোম্পানির আয়োজনে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) নদীখনন নিয়ে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের নদীমাতৃক দেশে ছোট বড় ৭০০টি নদী, জলপ্রবাহ ও খাল মিলে প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌ-পথ ছিল।

বিগত সরকারগুলোর অযত্ন ও অবহেলার ফলে এ নৌ-পথ বর্ষাকালে ৬ হাজার কিলোমিটার এবং শুল্ক মৌসুমে ৩ হাজার ৯০০ কিলোমিটারে দাঁড়ায়।

এ প্রেক্ষিতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নদীখননের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১২০০ কিলোমিটার নৌ-পথের খনন কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি নৌ-পথ খননের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, নৌ-পথ খননের লক্ষ্যে সরকার গত মেয়াদে ১৪টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছে। সরকারের চলতি মেয়াদে ২০৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো ২০টি ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম চলামন রয়েছে।

ব্যক্তি মালিকানায় ২৮টি ড্রেজার দিয়ে নদীখননের কাজ করছে। তবে দেশের সকল নৌ-পথ খননের জন্য ১০০টি ড্রেজার একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে অনেক সহজ হয়ে যাবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।

নৌ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নদীখননের কাজ চলছে। প্রায় ৫৯ দশমিক ৭১ ঘনমিটার খননের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দুই বছরের এ প্রকল্পের আওতায় আরও প্রায় ২৩৮ দশমিক ৬৫ লাখ ঘনমিটার খনন করা হবে।

শাজাহান খান বলেন, দেশের নদীগুলোকে বাঁচাতে খননের বিকল্প নেই। তাই দেশের বৃহৎ এ কাজ সম্পন্ন করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব না। তাই এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য তিনি নেদারল্যান্ডের রয়েল আইএইচসি কোম্পানিকে ধন্যবাদ জানান।

সেমিনারে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত লিওনি কিউলিনেয়ারসহ ড্রেজার কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

এসটি