মাগুরার মহম্মদপুরে বালিদিয়া, শ্রীপুর, নহাটা, সালধা, রামদেবপুর, হরিয়াখালী, রায়পাশা, গোপালপুর, রাজাপুর, খলিশাখালী, কালিশংকরপুর, পলাশবাড়িয়া ও মৌশা গ্রাম এবং যশোরের শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে ইরানি জিরার শুরু হয়েছেএসআরএ হান্নান মাগুরার মহম্মদপুরে নিজ জিরা ক্ষেতে গোপালপুর গ্রামের কৃষক মঞ্জু মোল্যা মাগুরার মহম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইরানি জিরার চাষ।
উপজেলার অন্তত ২০ জন কৃষক ব্যক্তি উদ্যোগে জিরার চাষ করছেন। বালিদিয়া, শ্রীপুর, নহাটা, সালধা, রামদেবপুর, হরিয়াখালী, রায়পাশা, গোপালপুর, রাজাপুর, খলিশাখালী, কালিশংকরপুর, পলাশবাড়িয়া ও মৌশা গ্রামের অন্তত ২০ জন কৃষক ইরানি জিরার আবাদ করছেন। কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় জিরা গাছ রিষ্টপুষ্টতার সঙ্গেই বেড়ে উঠছে। ফুলে ফুলে ভরে গেছে গোটা ক্ষেত। দিগন্তবিস্তৃত মাঠের মধ্যে একখ- জিরার ক্ষেত যে কারো নজর কাড়ছে সহজেই।
জিরা গাছের ডালপালা ফুলের সমারোহে দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠছে। জিরা চাষের খবর শুনে অনেকে ক্ষেত দেখতে যাচ্ছেন প্রতিদিন। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে উপজেলায় চলতি দেড় একর জমিতে জিরার আবাদ হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জিরা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে মহম্মদপুরে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মঞ্জু মোল্যা, খলিশাখালী গ্রামের তৈয়ব বিশ্বাস, কালিশংকরপুর গ্রামের চান্দু মোল্যা, সালধা গ্রামের অসীম, রামদেবপুর গ্রামের খবির হোসেন ও মতিয়ার মোল্যা এবং হরিয়াখালী গ্রামের মশিয়ার রহমানসহ বিভিন্ন গ্রামের ২০ জন কৃষক সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে ইরানি জিরার চাষ করছেন। প্রত্যেক চাষির ক্ষেতেই প্রচুর ফুল এসেছে। ফলনও ভালো পাবেন বলে তারা আশা করছেন। এসব কৃষক পাশের নড়াইল জেলা থেকে ইরানি জিরার বীজ সংগ্রহ করেন।
স্থানীয় কৃষকের জিরা চাষের অভিজ্ঞতা না থাকলেও অন্যান্য রবিশস্যের মতোই ক্ষেতে বীজ বপন করেন। চারা গজানোর পর সার, সেচ, কীটনাশক প্রয়োগ ও নিড়ানিসহ নিবিড় পরিচর্যায় ডালপালা গজিয়ে ক্ষেত ভরে গেছে। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে গোটা ক্ষেত।
নিবিড় পরিচর্যার পর এখন ফুল থেকে ফল আসতে শুরু করেছে। বাতাসে দোল খাচ্ছে জিরা গাছ। সেই সঙ্গে কৃষকের মনেও আনন্দের দোলা দিচ্ছে। জিরার ফুল পেয়ে মৌমাছিরাও আপন মনে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।
কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো প্রকার অভিজ্ঞতা ছাড়াই তারা পরীক্ষামূলকভাবে নিজেদের উদ্যোগে জিরার চাষ করছেন। ভালো ফলন ও লাভবান হলে আগামীতে জিরা চাষের পরিধি বাড়াবেন বলে জানিয়েছেন। গোপালপুর গ্রামের মঞ্জু মোল্যা জানান, তিনি এ বছর ৮ শতাংশ জমিতে জিরার চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত তার ক্ষেতের অবস্থা ভালো। ভালো ফলন পাবেন বলেও তিনি আশাবাদী।
মসলাজাতীয় দামি জিরা চাষে উপজেলার কৃষক সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পেঁৗছে গেছেন ইতোমধ্যে। এখন ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষা। যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটলে আগামী মৌসুমে উপজেলায় জিরা চাষ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আমাদের শার্শার সংবাদদাতা জানান, শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে জিরা চাষ। বীজ থেকে জন্ম নেয়া জিরা গাছে ভরে গেছে ফুল আর ফলে। জিরার সুরভিত বাতাসে ভরে গেছে মাঠ। আবদুল হাই নামে শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের মাঝামারা গ্রামের এক শৌখিন চাষি ইরান থেকে আসা এক আত্মীয়ের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে জিরা চাষ শুরু করেছেন। নিজে সফলতা অর্জনের পর জিরা চাষের প্রসার বৃদ্ধি করতে বীজ হিসেবে জিরা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কৃষি বিভাগ বলছে, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় জিরা চাষ সম্ভব। এজাতীয় মসলার চাষ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশে আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে।
তিনি জানান, ওই আত্মীয়ের কাছ থেকে মাত্র ২০০ গ্রাম জিরা বীজ কিনে ২০১৫ সালের নভেম্বরে ১৫ শতক জমিতে বীজ বপন করেন। অল্প খরচে ২ মাস যেতে না যেতেই আবদুল হাই তার জমিতে জিরার ফুল আর ফল দেখতে পান। এখন মাঠে জিরার সুরভিত গন্ধে প্রতিদিন দর্শনার্থীদেরও ভিড় বাড়ছে।
১৫ শতক জমিতে জিরা উৎপাদন করতে এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা। গাছ থেকে জিরা সংগ্রহ করে ২-৪ দিন রোদে শুকানোর পর বাজারজাত করা যাবে এ জিরা। রান্নার মসলার কাজে ব্যবহার করা উপযোগী। উৎপাদিত এ জিরা চাষের প্রসার বৃদ্ধি করতে আবদুল হাই এ বছর জিরার বীজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তার উৎপাদিত জিরা বীজ হিসেবে বিক্রি করে লাখ টাকা লাভ করবেন বলে আশা করছেন।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার জানান, শার্শা উপজেলায় এ বছর ৪২৫ হেক্টর জমিতে মসলাজাতীয় ফসলের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ১৫ শতক জমিতে এই প্রথম জিরা চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো। একরে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ২০ মণ জিরা উৎপাদন করা সম্ভব। যা থেকে কৃষকের লাভ হবে ২ লাখ টাকা। তা ছাড়া বাংলাদেশের আবহাওয়ায়ও জিরা চাষ সম্ভব। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাণিজ্যকভাবে এর চাষ বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।
এআই





