পঞ্চগড়ে ভারতীয় নাগরিক নিতিমালা দাশকে বিএসএফের হাতে তুলে দিল বিজিবি। দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস পর মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির সহায়তায় তাকে বিএসএফ’র মাধ্যমে তার স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি থানার গাঁতলা গ্রামের মৃত দিপঙ্কর দাশের কন্যা। সে মস্তিষ্ক সমস্যার কারণে সীমানা পেরিয়ে দীর্ঘদিন পঞ্চগড় শহরে পাগলের মতো ঘুরছিল। এ সময় পঞ্চগড় সিংরোড কামারপাড়া সীমান্তে আবেক আপ্লুত হয়ে পড়েন উভয় দেশের স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ মস্তিষ্কজনীত রোগে আক্রান্ত হয়ে সে নিজ বাড়ি থেকে চলে যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুজির পর তাকে পাওয়া যায় নি। এরই মধ্যে কোন এক সময় সে সীমানা পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পাড়ি জমান।
গত ৪ মাস থেকে সে পঞ্চগড় শহরে পাগলের মতো ঘুরতে থাকলে পঞ্চগড় শহরের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক জসিয়ার রহমান প্রধান ও শিক্ষিকা মমতাজ মহল বিথি দম্পত্তি তাকে নিজ বাড়িতে ঠাই দেন। ওই বাড়িতে থাকার সময় তার পরিচয় জানতে চাইলে সে কিছুই বলতে পারেনি।
কিছুটা সুস্থ্য হলে ২৮ আগস্ট তার পরিচয় বলতে পারে। এরপর বাড়ির মালিক জসিয়ার রহমান তার দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী একটি চিঠি প্রেরণ করেন। কিন্তু কোন উত্তর আসে না। এরই মধ্যে সে আবার পাগল হয়ে যায়। এ নিয়ে তিনি পঞ্চগড় সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।
আর এরই মধ্যে আসে নিতিমালার দাদার পক্ষ থেকে চিঠি । তারা তাকে ফেরত পাঠানো জন্য আকুতি জানায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে মুমূর্ষূ অবস্থায় পাওয়া যায়।
জসিয়ার রহমান তাকে দ্রুত পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় তার মাথা, শরীর, পাসহ নানা জায়গায় যখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে পঞ্চগড় সিংরোড কামারপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের মাধ্যমে মঙ্গলবার দুপুরে খয়েরবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পর এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিতিমালা দাশের ভাই নবকুমার দাশ ও বোন সুভদ্রার হাতে তুলে দেয়া হয়।
এ সময় বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ডানাকাটা বিওপি বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়ক সুবেদার দোলোয়ার হোসেন । ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১০২ খয়েরবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এস আর কৃষ্ণা।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য এ্যাড. রীনা পারভীন, চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন আবু দাউদ প্রধান, নিতিমালার আশ্রয়দাতা জসিয়ার রহমান প্রধানসহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্কুল শিক্ষিকা মমতাজ মহল বিথি বলেন, ওকে আশ্রয় দেয়ার পর থেকে আমরা তাকে চিকিৎসা করেছি। ও ভালো হলে আমাদের কাজে সহায়তা করেছে। ও আমাদের বাড়িতে খেতো না বলে আমরা হিন্দু হোটেল থেকে খাবার এনে তাকে খাওয়াতাম।
জসিয়ার রহমান প্রধান বলেন, নিতিমালা পঞ্চগড় বাজারের কাচামাল হাটে দোকানদারদের সাহায্য করতো। আর বেশিরভাগ সময় আমাদের বাড়িতে এসে থাকতো। তাই তাকে আশ্রই দেই। নিতিমালা তার স্বজনদের ফিরে পেয়েছে আমরা এতে খুব খুশি হয়েছি।
১০২ খয়েরবাড়ি বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার এস আর কৃষ্ণা ভারতীয় নাগরিক নিতিমালা দাশকে আশ্রয়দাতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটা খুব ভাল উদ্যোগ। আমরা অনেক খুশি হয়েছি। আশা করি এভাবে আমরা সীমান্তে উভয় দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমর্থ হবো।
পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আরিফুল হক নিতিমালাকে বিজিবি কর্তৃক ফেরত দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এসএইচ





