নাশকতার মামলা না থাকার পরও ঋণখেলাপী হওয়ায় বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের রাসেলের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে ১৮টি মামলা নিয়েও আব্দুল হালিম শাহআলম নামে বিএনপি সমর্থিত এক প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়েছে।
সরফরাজ কাদের রাসেল ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত বর্তমান কাউন্সিলর। আর শাহআলম লড়বেন নগরীর ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডে।
এছাড়া ঋণখেলাপী হওয়ায় ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলামসহ আরও তিনজনের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে।
নাশকতার অভিযোগে মামলা থাকায় এবং অনেকে ফেরারি হওয়ায় প্রার্থীতা টিকবে কিনা তা নিয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে শংকা আছে। আবার প্রার্থীতা টিকলেও মামলা মাথায় নিয়ে স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন কিনা তা নিয়েও শংকা আছে তাদের মধ্যে।
কিন্তু সরফরাজ কাদের রাসেলের বিরুদ্ধে নাশকতার কোন মামলা নেই। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নেয়া ঋণ সংক্রান্ত জটিলতায় ফেঁসে যাচ্ছেন রাসেল। আর শাহআলম বর্তমানে কারাগারে আছেন বলে যাচাইবাছাইয়ের সময় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বুধবার মনোনয়ন পত্র যাচাইবাছাইয়ের প্রথম দিনে মেয়র, ৬টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড এবং ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডের ১৬৪টি মনোনয়ন পত্র যাচাইবাছাই করা হয়। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ১৩টি।
এদের মধ্যে দুই কাউন্সিলরসহ ঋণখেলাপির অভিযোগে ৪ জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে।
মনোনয়ন পত্র বাছাইয়ের সময় সরফরাজ কাদের চৌধুরী রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, রাসেল তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সময়মত পরিশোধ করেননি। ঋণ পুন:তফসিলও করা হয়নি।
সরফরাজ কাদের চৌধুরী রাসেল বাংলানিউজকে বলেন, সিইপিজেডে এম এ সু নামে আমাদের চারজনের মালিকানায় একটি প্রতিষ্ঠান আছে। আমি প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালক। আসলে ঋণ নেয়া কিংবা পরিশোধের বিষয়গুলো চেয়ারম্যান সাহেব দেখেন। আর ঋণ আমার নামেও নেয়া হয়নি। আমি রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপিল করব।
আরেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলামের মনোনয়ন পত্র যাচাইবাছাইয়ের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আপত্তি তোলা হয়। ঋণখেলাপীর অভিযোগ আমলে নিয়ে রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সিরাজুল ইসলামের মোবাইলে ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নগরীর ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পত্র দাখিলকারী হেলাল উদ্দিন এইচএসবিসি ব্যাংকের ঋণখেলাপি হওয়ায় তার প্রার্থীতা বাতিল হয়।
একই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী নূর আহমেদ মিঠুও সোনালি ব্যাংকের ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে।
৪১ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পত্র দাখিলকারী তাজউদ্দিন আহমেদ, ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে মো.আসলাম, ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে শাহেদুল আলম, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডে সাবের আহমদের মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে জমা দেয়া তথ্যে ত্রুটি থাকায় তাদের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়।
এছাড়া একই অভিযোগে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে ৯ নম্বরে খালেদা বোরহান, ৫ নম্বরে জাহানারা বেগম, ১৩ নম্বরে মনোয়ারা বেগম ও মোছাম্মৎ মনোয়ারা বেগম নামে চারজনের প্রার্থীতা বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার।
রিটার্নিং অফিসার মো.আব্দুল বাতেন বলেন, মনোনয়ন পত্র বাতিলের কারণে সংক্ষুব্ধ অথবা বৈধ ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কারও কোন অভিযোগ থাকলে তিনদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আপিল কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে আপিল দায়ের করতে পারবেন। দায়েরের তিনদিনের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন।
মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই কার্যক্রম বৃহস্পতিবারও চলবে।
ইআর





