গতবারের মতো এবারও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পশু কোরবানির জন্য ৬৪৫টি স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হলেও সেগুলো ছিল ফাঁকা। রাস্তায় পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে।
নির্ধারিত স্থানে দেখা যায়নি কাউকেই। রাস্তাঘাটে পশু কোরবানির ফলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে ঈদুল আজহার নামাজের পর রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানগুলো পশুশূন্য দেখা যায়। অথচ নির্ধারিত স্থানের পাশের সড়কেই গরু কোরবানির চিত্র দেখা গেছে।
সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বলছেন, রাস্তার পাশে যত্রতত্র পশু কোরবানি করায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তাদের প্রচুর বেগ পেতে হচ্ছে। গত কয়েকবছর ধরে স্থান নির্ধারণ করার পরও কোনো ধরনের সাড়া পাচ্ছে না সিটি কর্পোরেশন। এক্ষেত্রে প্রচারের অভাবকেও দায়ী করছেন কেউ কেউ।
রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করার আগ্রহ নেই কারও। অথচ আশপাশের প্রায় প্রতিটি বাড়ির সামনে, বাড়ির গ্যারেজে কোরবানি দিতে দেখা গেছে।
মগবাজার এলাকার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর এলাকার ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনেই প্যান্ডেল টাঙ্গানো হয়। অনেকে এটার ভেতর গরু বেঁধে রাখে। অনেকসময় এটি খালি দেখা যায়।
আমি এই বছরই প্রথম জানলাম যে এটি কোরবানি দেয়ার নির্ধারিত স্থান। তবে আমাদের সবার উচিত সিটি কর্পোরেশনকে সাহায্য করা, সবাই একসঙ্গে এখানে কোরবানি দিলে বর্জ্য এদিক-ওদিক পড়ে থাকবে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ফকিরাপুল এলাকায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট কোরবানির স্থান খালি পড়ে থাকলেও আশপাশে উন্মুক্ত স্থানে ও রাস্তাঘাটে পশু কোরবানি দেয় এলাকাবাসী। নির্দিষ্ট স্থানের একেবারেই কাছে পানির ট্যাংকের মুখে গরু জবাই করে রাখা হয়েছে।
পশুর রক্ত ও বর্জ্য এসে পড়েছে রাস্তাঘাটে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা না হলে পরিবেশ দূষিত হবে। ফকিরাপুল, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন এলাকার বাসিন্দারা অলিগলিতে কোরবানি দিয়েছেন।
রাস্তায় পশু জবাই করেছেন কেন, জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফকিরাপুলের এক বাসিন্দা জানান, নিজেদের বাসার সামনে কোরবানি করলে সুবিধা। এক জায়গায় সবকিছু শেষ করা যায়। নির্দিষ্ট স্থানে জবাই করার পর সেখান থেকে মাংস বাসায় আনা কষ্টকর।
উন্মুক্ত স্থানে কিংবা রাস্তাঘাটে নয়, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি দিতে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। কিন্তু নগরবাসীর অনেকেই এ অনুরোধে কর্ণপাত করেননি। এ ব্যাপারে অনেকটা উদাসীন নগরবাসী। তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব লক্ষ করা গেছে।
এর আগে এক অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে ৫টি পশু কোরবানির নির্ধারিত স্থান রয়েছে। সেখানে প্যান্ডেল, পানি, ইমাম-কসাইসহ যাবতীয় ব্যবস্থা রাখা হবে। আপনারা অনুগ্রহ করে সেখানে পশু কোরবানি করবেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। যদি কোরবানির বর্জ্য, পানি, রক্ত ইত্যাদি অপসারণ না করা হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কারও এলাকায় যদি বর্জ্য থেকে যায় তাহলে তিনি হটলাইনে (০৯৬১১০০০৯৯৯) ফোন দেবেন। হটলাইনে অপারেটররা আপনার বাসা-বাড়ি কিংবা এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী পাঠিয়ে দেবেন। এছাড়া বর্জ্য অপসারণের সার্বিক কাজ ফেসবুকে তদারকি করা হবে।
এএস





