রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগে জোড়া খুনের ঘটনার নেপথ্যে এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক।কিশোরীর সঙ্গে প্রেম অতঃপর অপহরণের ঘটনার জের ধরে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
মোবাইলফোনের কললিস্টে কল করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে নিহত দুজনের নাম।নিহতরা হলেন কাইয়ুম ও জাহাঙ্গীর।
নিহত জাহাঙ্গীরের রাজধানীর মনিপুরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের একটি দোকান রয়েছে। তার স্ত্রীর নাম পুতুল।তিনি বরিশালে রয়েছেন।হত্যার পর জাহাঙ্গীরের মুঠোফোন থেকে পুলিশ তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।অপর নিহত কাইয়ুমের বাড়িও পীরেরবাগে বলে পুলিশ জানায়।
রোববার রাত আনুমানিক ১টায় মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগ এলাকার ভিউ সোসাইটির ১ নম্বর রোডের ২১/৫/বি নম্বর বাড়ির পাশে বটতলা থেকে ওই দু'যুবকের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য,নিহতরা ওই কিশোরীর আত্মীয় হতে পারেন।
মিরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,পীরেরবাগের বটতলার গলিতে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই এলাকার রং মিস্ত্রি বিল্লালের।এ ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে কিশোরীর পরিবার তা মেনে নেয়নি।এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা চলছিল।
গত শুক্রবার থেকে ওই কিশোরীকে কোথায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।খুঁজে না পাওয়ায় কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা রোববার রাতে বটতলার গলিতে বিল্লালের বড় বোন পারভীনের বাসায় যান।সেখানে এ বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।বাগবিতণ্ডা চলাকালে কিশোরীর পরিবারের এক সদস্য পারভীনকে চড় মারেন।এ সময় পারভীনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়।
এ ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা চলে যাবার পর দুটি মোটরসাইকেলে করে আরও কয়েকজন যুবক পারভীনের বাসায় যান। তাদের মধ্যে নিহত জাহাঙ্গীর ও কাইয়ুম ছিলেন বলে পুলিশের ওই সূত্রের দাবি।ঘটনার একপর্যায়ে গভীর রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
প্রেমিক বিল্লালের বোন পারভীনের এক প্রতিবেশী বলেন,রাত সাড়ে ১১টার পর চিৎকার শুনতে পাই। এরপর মোটরসাইকেলের শব্দ।এরপর আবার হইচইশুনতে পাই।আনুমানিক দেড়টার দিকে পুলিশ এসে জানায় দুটি লাশ পড়ে আছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত বটতলা এলাকার পরিস্থিতি ছিল থমথমে।বেশিরভাগ দোকান বন্ধ দেখা যায়।এলাকাবাসীর মধ্যে সুনসান নীরবতা। এব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে কেউই কথা বলতে রাজি হননি।
মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান টাইমনিউজবিডিকে জানান,নিহত জাহাঙ্গীর ও কাইয়ুম ওই কিশোরীর পরিবারের স্বজন কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওসি আরও জানান,ওই কিশোরীর বাড়ি পীরেরবাগ এলাকায়।তদন্তের স্বার্থে তিনি কিশোরী বা তার পরিবারের পরিচয় জানাতে রাজি হননি।বিকাল ৩টা পর্যন্ত কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।
ওসি সালাউদ্দিন খান জানান,পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।একটি হলো কিশোরীর সঙ্গে প্রেম সম্পর্ক।অন্যটি হলো, নিহত জাহাঙ্গীর মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারের জের ধরেও এ খুনের ঘটনা ঘটতে পারে।
সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও নিহত দুই ব্যক্তির আত্মীয় স্বজনদের সাথে কথা বলে এ বিষয়টি জানা গেছে।
থানা পুলিশ ও নিহতের আত্মীয়স্বজন সূত্রে জানা গেছে,নিহত আবদুল কাইয়ুম (৩২)দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন।এরপর দেশে ফিরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কারণে মিরপুর থানা পুলিশের হাতে আটকও হন তিনি।
জেলখানা থেকে বেরিয়ে ফের ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। মাদক ব্যবসায় আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় অপর মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিল কাইয়ুম।কাইয়ুমের বাড়ি রাজধানীর ৭৮/৩ মধ্য পীরেরবাগ এলাকায়।কাইয়ুমের মাদক ব্যবসার সহযোগী হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে জাহাঙ্গীর।জাহাঙ্গীরের অদূরে সাভার এলাকায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালে নিহত কাইয়ুমের বড় ভাই পরিচয় দিয়ে কায়েস জানান,কাইয়ুমের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল কি না তা সঠিক জানি না।তবে কাইয়ুম মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল জানান তিনি।
এব্যাপারে পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন টাইমনিউজবিডিকে বলেন,জোড়া খুনের ঘটনায় কয়েকটি বিষয় শনাক্ত করে সে অনুযায়ী তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।এরমধ্যে প্রেম অতঃপর অপহরণ এবং মাদক ব্যবসা এই উভয় বিষয় জোড়ালোভাবে দেখা হচ্ছে।
[b]ঢাকা,জেইউ,২১এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)//জেএ[/b]