বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ না হলে রাজপথে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে ভাড়াটিয়া পরিষদ।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এ হুমকি দেন।
বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম দূর করার লক্ষ্যে এবং ভাড়া না বাড়ানোর জন্য অবিলম্বে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৫ সালের শুরু থেকেই ঢাকা শহরের ভাড়াটিয়াদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সংগঠনটির সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, ‘ঢাকা শহরে প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ লোকের বসবাস। বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা হওয়ার কারণে সারা দেশের গরীব, দরিদ্র, হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাস। বর্তমানে ঢাকা শহরের ৭৭৫টি এলাকায় সিটি করপোরেশনের বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। বাড়ির মালিকরা এ ভাড়া না মেনে কয়েকগুণ ভাড়া বেশি নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা মানছে না বাড়িওয়ালারা। প্রতিবছরের জানুয়ারি মাসে বাড়িওয়ালারা এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ইচ্ছা মাফিক ভাড়া বাড়াচ্ছেন।’
সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ভাড়াটিয়ার ঘাড়ে এ বিদ্যুৎ বিলের ভার এসে পড়বে। বাড়ির মালিকেরা ১০ টাকা বিদ্যুতের বিল বাড়লে ২০০ টাকা ভাড়াটিয়াদের পকেট থেকে নেবেন। ঢাকায় ছেলেমেয়েদের নিয়ে ভাড়াটিয়াদের জীবনযাপন করা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। বাড়ির মালিকেরা ভাড়াটিয়াদের অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতন করছেন।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সরকার সংসদে অনেক প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কথা বললেও দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য বাড়ি ভাড়া নির্ধারণের কোনো উদ্যোগ কোনো সরকার গ্রহণ করেন না। ঢাকা শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ নিম্ন আয়ের ভাড়াটিয়া রয়েছে। ভোটের সময় এদের কদর থাকলেও ভোটের পর এদের পক্ষে কথা বলার কেউ থাকে না।’
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে বাহার বলেন, ‘ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে মাত্র এক মাসের অগ্রিম ভাড়া নিতে হবে। আইন বহির্ভূতভাবে বাসা ও দোকান ভাড়া বাড়ানো চলবে না। যেসব মালিক আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে বিচার করতে হবে। ঢাকা শহরের আশেপাশে সরকারি জমিতে গণ কলোনি গড়ে তুলে আবাসন সংকট নিরসন করতে হবে। বাড়িওয়ালাদের অর্থনৈতিক নির্যাতন থেকে ভাড়াটিয়াদের রক্ষা করতে হবে।’
এ জন্য ১৯৯১ সালে প্রণীত বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বাস্তবায়ন করার দাবিও জানান তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন—সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জান্নাত ফাতেমা, মো. মোস্তফা, মাহাতাব উদ্দিন শহীদ, এ্যাডভোকেট জুয়েল আহমেদ ও এ্যাডভোকেট ফজলুল হক প্রমুখ।
জেআই





