রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত রংপুর ডিস্টিলারিজ কোম্পানির কর্মচারীরা ১০ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন।

সোমবার সকালে ডিস্টিলারিজ চত্বরে ওই কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

কর্মসূচির শুরুতে বক্তব্য রাখেন-শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিছুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক সদরুল আলম ও উপদেষ্টা রেয়াজুল কবীর সেলিম প্রমুখ।

বক্তারা অবিলম্বে শ্রমিক-কর্মচারীদের ১০ মাসের বকেয়া বেতন ও বোনাস দেওয়া ছাড়াও নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান।

শ্রমিকরা জানান, রংপুর ডিস্টিলারিজের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পপতি নূরুল হুদা সুলতান হলেও বর্তমান মালিক আরেক শিল্পপতি লুৎফর রহমান বাদল। তিনি মালিকানা পেয়েই আব্দুল হালিম সাবু নামে এক ব্যক্তিকে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর থেকে প্রজেক্ট ম্যানেজার রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ডিস্টিলারিজের উৎপাদিত স্পিরিট কালোবাজারে বিক্রি করতে থাকেন। এ কারণে গোয়েন্দা পুলিশ একাধিকবার বিপুল পরিমাণ স্পিরিট আটক করার পাশাপাশি প্রজেক্ট ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা করে। বর্তমানে ওই মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন থাকলেও ডিস্টিলারিজে চলছে হরিলুট কারবার। আর এর দায় চাপানো হচ্ছে নিরীহ শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর। আর এসব অভিযোগে এরই মধ্যে ডিস্টিলারিজের ১৩৬ শ্রমিক-কর্মচারীর মধ্যে ৯০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বাকি ৪৬ জন চাকরিতে বহাল থাকলেও তারা ১০ মাস ধরে বেতন-বোনাস পাচ্ছেন না। ফলে ওইসব শ্রমিক-কর্মচারীর পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বিষয়টি সুরাহা করতে ডিস্টিলারিজের মালিক লুৎফর রহমান বাদলের সঙ্গে যোগাযোগ করেও লাভ হয়নি। বরং মালিককে জানানোর অপরাধে প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল হালিম সাবু শ্রমিকদের নানাভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছেন।

এ কারণে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। কিন্তু ওই পর্যন্তই। শ্রমিকদের আবেদন-নিবেদনে কেউ সাড়া দেননি। ফলে নিরূপায় শ্রমিকরা আমরণ অনশনের মত কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে রংপুর ডিস্টিলারিজের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল হালিম সাবুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বদরগঞ্জের ইউএনও খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়ায় সরকারিভাবে কিছুই করা সম্ভব নয়। তারপরও এলাকার স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়ে করণীয় ঠিক করা হবে।

জেআই