ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ টি উপজেলায় বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন ধানের শীষের সোনালী রঙের বর্ণিল ছটার সমারোহ। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। এ সবুজ রং বলে দিচ্ছে গ্রামবাংলার কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা ইরি-বোরো ধান চাষের দৃশ্য। চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের ভাল ফলনের বুকভরা আশা করছে কৃষকরা।

ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে । দেশের উৎপাদিত বেশির ভাগ চালের চাহিদা পূরণ করে উত্তরের জেলাগুলো। জেলার সদর উপজেলাসহ, পীরগঞ্জ, হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল ৫টি উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর চলতি মৌসুমে ৫৯ হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর অর্জিত হয়েছে ৫৫ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমির আবাদ। বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৮৭ মে: ট:।

চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও কৃষকেরা বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কতৃপক্ষের গভীর নলকূপ, বিদ্যুৎ চালিত ব্যক্তিগত মটর, ডিজেল ইঙ্জিন, নদী থেকে বিদ্যুৎ চালিত পাম্প এর মাধ্যমে আবাদি ইরি-বোরো ধান ক্ষেতে সেচ প্রদান করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সঠিক সময়ে চারা লাগানো নিবিড় পরিচর্যা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথা সময়ে সেচ দেওয়া, সার সংকট না থাকায় জেলায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।

সরজমিনে মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন সোনারী সবুজের সমারোহ। ঠাকুরগাঁওয়ে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত ইরি-বোরো ধানের শীষে সবুজের সমারোহে বিস্তীর্ণ মাঠ দেখলে মন জুড়িয়ে যায়।

চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষের অনুকূল আবহাওয়া থাকাই যথা সময়ে ইরি-বোরো ধান চাষ করেছে জেলার কৃষকরা। জেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করছেন মাঠ পর্যায়ে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তাছাড়া আলোক ফাঁদে এবং বোরো ক্ষেতে কুঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে পোকা-মাকড় নিধনে কৃষকদের উৎসাহিত করায় রোগবালাই কম দেখা যাচ্ছে।

জেলার মিলনপুর গ্রামের কৃষক রুবেল বলেন, আমি এবার ২০ বিঘা বোরো ধান লাগিয়েছি। তবে সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় খরচ বেশি হয়েছে। এতে করে ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসান গুনতে হবে কৃষকদের।

এদিকে গেল বছরে আমন ধান বিক্রি করতে হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। আর চলতি মৌসুমে বোরো ধান ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হবে কি না- এ নিয়ে শঙ্কায় আছি আমরা। তবে বোরো ধান উৎপাদনের পর পরই যদি সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করেন তাহলে কৃষক লাভবান হবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

কৃষকরা আরো অভিযোগ করে বলেন, ধান চাষ করে আমরা যতটা লাভ করতে পারি না তারচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন মিলের মালিকরা।

এমআইএস