রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় ‘বোমা প্রস্তুতকারী’ ছিলেন সোহেল মাহফুজ নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) থেকে নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়েছেন। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে।

আজ শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির ২১ সদস্য ও জাল নোট চক্রের আটজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ওই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, গুলশান হামলায় জড়িত সোহেল মাহফুজ নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। তিনি কীভাবে জড়িত ছিলেন জানতে চাইলে মনিরুল বলেন, তিনি ‘বোমা প্রস্তুতকারী’ ছিলেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এর আগে গুলশানে হামলা মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, গুলশান হামলার মূল সমন্বয়ক তামিম চৌধুরী ও যোগাযোগ সমন্বয়ক তাওসিফ হোসেন নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে নিহত হন। হামলার অপারেশন কমান্ডার ছিলেন নুরুল ইসলাম মারজান, পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জোনায়েদ খান, খালেদ ও মানিক। এ ছাড়া ‘নব্য জেএমবি’ নেতা রাজিব ওরফে রাজিব গান্ধী গুলশানে হামলা চালাতে দুজনকে নিয়োগ দিয়ে তামিম চৌধুরীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। এ ছাড়া ওই হামলার বিষয়ে জানতেন নব্য জেএমবির আরেক নেতা রিপন। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র বলেছে, মারজান গোয়েন্দা জালে ধরা পড়ার পর্যায়ে আছেন। আর জোনায়েদ খানের সর্বশেষ অবস্থান ছিল কল্যাণপুর আস্তানায়।

গতকাল ১ সেপ্টেম্বর গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটি) প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম ওই দিন বলেন, গুলশানে হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থ, অস্ত্রের জোগানদাতাসহ ১০ জনের সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। গুলশানের হামলার অপারেশনাল কমান্ডার নুরুল ইসলাম মারজান, জোনায়েদ খানসহ ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের ধরতে অভিযান চলছে। বাকিদের অবস্থান জানতে তদন্ত চলছে।

গত ১ জুলাই রাতে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের পাশে অবস্থিত হলি আর্টিজান বেকারি এবং ও’কিচেন রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা হামলা চালান। তাঁরা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করেন। ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা রবিউল করিম ও সালাউদ্দিন খান নিহত হন। পুলিশের ৩১ সদস্যসহ ৪১ জন আহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হন। পরে পুলিশ ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একজন রেস্তোরাঁকর্মী। অভিযানের আগে ও পরে ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়।

অজ্ঞান পার্টির ২১ জনের দণ্ড
আজকের ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আজ সকাল থেকে রাজধানীর মহাখালী, যাত্রাবাড়ী ও দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ অজ্ঞান ও মলম পার্টির ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

৫২ লাখ জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ৮
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, রাজধানীর পল্টন ও কোতোয়ালি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকার নোটসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে ৫২ লাখ জাল নোট, বেশ কিছু ভারতীয় জাল রুপিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ইউসুফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ওই অভিযান চালানো হয়।

এসএ