মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে আজ বুধবার।

চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার নিজামীর মামলার রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ২৪ জুন অসুস্থতার কারণে নিজামীকে আদালতে হাজির না করায় রায় ঘোষণা করেনি ট্রাইব্যুনাল।

এটিই একমাত্র মামলা, যা রায়ের জন্য তিনবার অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়।

গত ২৪ মার্চ নিজামীর মামলায় চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে মর্মে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া এটিই একমাত্র মামলা, যা রায়ের জন্য তিনবার অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

নিজামীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো ১৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এ সব ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১২ সালের ২৮ মে তার বিচার শুরু হয়।

নিজামীর বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৬ আগস্ট থেকে গত বছরের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সাক্ষী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা, অধ্যাপক, সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদসহ মোট ২৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। অপরদিকে সাফাই সাক্ষ্য দেন মাত্র ৪ জন। এরা হলেন— নিজামীর ছেলে মো. নাজিবুর রহমান এবং অ্যাডভোকেট কে এ হামিদুর রহমান, মো. শামসুল আলম ও আবদুস সালাম মুকুল।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর নিজামীর বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে মামলাটি যে কোনো দিন রায় (সিএভি) ঘোষণার জন্য রেখেছিল ট্রাইব্যুনাল-১ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল। এর পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের চাকরির বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ায় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যান তিনি।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান পদে সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

নতুন চেয়ারম্যান নিজামীর মামলায় নতুন করে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন। সে অনুয়ায়ী এ মামলায় পুনরায় যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে একটি মামলায় গ্রেফতার করার পর একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

এর পর ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর জামায়াতের আমীরের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

এএইচ