বরিশাল নগরীর বাজার রোড এলাকায় দুই গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় তাদের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন বাজার রোডের এ অ্যান্ড জে এন্টারপ্রাইজের মালিক জুয়েল আহম্মেদ এবং তার স্ত্রী ইসরাত জাহান দিনা।
এর আগে নির্যাতনের খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) শীর্ষ কর্মকর্তা কমিশনার এস.এম রুহুল আমিন। তিনি নির্যাতনের ভয়াবহতা দেখে তাৎক্ষণিক নির্যাতনকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। একই সাথে নির্যাতিত তরুণীকে উদ্ধার করে কোতয়ালী মডেল থানার মাধ্যমে সেইফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নির্যাতিত আসফিয়া জানান, বরিশাল নগরীর বাজার রোড এলাকার ওই দম্পতির বাসায় দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মীর কাজ করে আসছিল সে। কাজের সময় নানা অজুহাতে তাকে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের সময়ে শিকলে বেঁধে হাতে পায়ের নখে সুঁই ফুটিয়ে, শরীরে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন চালাত।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এসএম রুহুল আমিন জানান, গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আসফিয়া নামের একটি মেয়ে তাদের বাসা থেকে পালিয়ে যায়। সে পালিয়ে গিয়ে বিমানবন্দর থানাধীন দক্ষিণ বাঘিয়া এলাকায় চলে যায়। তারপর পুলিশ সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে। পরে আসফিয়া পুলিশের কাছে নির্যাতনের বিষয়টি জানায়। তার সাথে আরও এক গৃহকর্মী আয়শাকেও নির্যাতন করা হয় বলেও জানায় আসফিয়া। সেই সূত্র ধরে তাকে নিয়ে পুলিশ এই বাসায় এসে নির্যাতনের সত্যতা পায় এবং অপর গৃহকর্মীকেও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ কমিশনার জানান, দুই গৃহকর্মীকে এই বাসায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। এদের দুজনকেই জোর করে আটকে রেখে যে নির্যাতন করা হয়েছে তার প্রমাণ মিলেছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এসএম রুহুল আমিন বলেন, ‘গৃহকত্রী ইসরাত জাহান দিনার সাথে কথা বলেছি আমরা। তিনি উচ্চ শিক্ষিত। শিক্ষিত লোকজনদের দ্বারা এমন আচরণ আসলেই খুবই দুঃখজনক।’
নির্যাতনের শিকার আসফিয়া জানায়, দেড় বছর তাকে সেই বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল। ঠিকমত খাবার দিলেও কঠিন নির্যাতন করা হত। এই নির্যাতন থেকে বাঁচতে সে পালিয়ে এয়ারপোর্ট থানার দক্ষিণ বাঘিয়া এলাকার বাসিন্দা রেনু বেগমের বাসায় এসে ঘটনাগুলো বলে।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সোমবার ভোরে কৌশলে জুয়েল ও দিনা দম্পতির বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে কাশিপুর এলাকায় মনির নামের স্থানীয় এক সাংবাদিকের সাথে আসফিয়ার দেখা হলে ঘটনা জানায় আসফিয়া। ওই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাটি পুলিশ কমিশনারকে জানালে বিএমপি কমিশনার স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযান চালিয়ে নির্যাতকদের গ্রেফতার করে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং নির্যাতনের শিকার দুই গৃহকর্মীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে আনা হয়েছে।’
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন মামুন বলেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।





