সিলেটে কিশোর সামিউল আলম রাজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাজ উদ্দিন আহমেদ বাদলকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তার বাবা সুলতান আহমদ।

বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১০টার দিকে সিলেট সদর উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুলতান আহমদ তার ছেলেকে জালালাবাদ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রাজন হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃত কয়েকজন আসামির জবানবন্দিতে বাদলের নাম ওঠে আসায় তাকে গ্রেফতারে তৎপর হয় পুলিশ।

বাদলকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চায় পুলিশ। এর প্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় সুলতান আহমদ তার ছেলেকে বাড়িতে ডেকে এনে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় জালালাবাদ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এদিকে বাদলকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সময় বাবা-ছেলের কান্নায় এক আবেগঘণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।বাদল তার বাবার পা ছুঁয়ে সালাম করে পুলিশের গাড়িতে ওঠে পড়েন।


এ সময় সুলতান আহমদ বলেন, ‘আমার ছেলে নির্দোষ হলে মুক্তি পাবে। আর যদি দোষী হয়, তবে তার শাস্তি হোক।’

গ্রেফতার করে নিয়ে আসার সময় বাদল জানান, সিলেট শহরতলির কুমারগাঁওয়ের বাসিন্দা মুহিদ আলম ও কামরুল ইসলামের (রাজন হত্যার মূল হোতা) ভাই শামীমের মালিকানাধীন ওয়ার্কশপে কাজ করতেন তিনি। যেদিন (৮ জুলাই) রাজনকে হত্যা করা হয়, সেদিন সকাল ১১টার দিকে তিনি কর্মস্থলে যায়। এ সময় রাজন প্রায় মৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। রাজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওয়ার্কশপে রাখা একটি মাইক্রোবাসের চাবি এনে দিতে কামরুল তাকে নির্দেশ দেয়।

জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন জানান, বাদলকে তার বাবা ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজন হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের জবানবন্দিতে তার নাম ওঠে এসেছে।

রাজন হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত এক নারীসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মামলার আসামি ময়না চৌকিদারকে তার মা ও স্থানীয় এলাকাবাসী পুলিশের হাতে তুলে দেন। আর বাদলকে বুধবার দিবাগত রাতে পুলিশে দিলেন তার বাবা। এছাড়া আরো চারজনকে জনতা আটক করে পুলিশে দেন।

এ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মুহিদ আলম, ময়না চৌকিদার, দুলাল আহমদ, নুর মিয়া এবং প্রত্যক্ষদর্শী আজমত উল্লাহ ও ফিরোজ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদিকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম জেদ্দায় গ্রেফতার হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জেদ্দায় বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছিলেন।

৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে সামিউলকে চুরির মিথ্যা অপবাদে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে রাজন মারা গেলে তার লাশ গুম করার চেষ্টাকালে পুলিশের হাতে আটক হয় মুহিদ আলম। দেশে-বিদেশে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠে নিন্দার ঝড়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নগরীর জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় অন্যতম আসামি মুহিদ আলম (২২) ছাড়াও তার ভাই কামরুল ইসলামকে (২৪) স্থানীয় প্রবাসীরা সৌদি আরবের মক্কা থেকে আটক পুলিশে দেন। কামরুল ওই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। হত্যাকাণ্ডের ভিডিওতে তার ছবি দেখা গিয়েছিল। সামিউল হত্যার দুদিন পর (১০ জুলাই) প্রবাসী কামরুল সৌদি আরবে পালিয়ে যান।

নিহত সামিউল আলম রাজনের বাড়ি সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে।

সামিউলের বাবা শেখ আজিজুর রহমান পেশায় একজন মাইক্রোবাসচালক। তার দুই ছেলের মধ্যে সামিউল বড়। অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা সামিউল সবজি বিক্রি করত।