বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ব্যবহৃত বাই সাইকেলটি নড়াইলে স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘরে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ব্যবহাকারীকে দেয়া হবে অর্থ বা নতুন সাইকেল।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ব্যবহৃত বাই সাইকেলটির সন্ধান পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইকেলটির ব্যবহারকারী এমদাদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং তাকে অনুরোধ করা হয় বাই সাইকেলটি সংগ্রহশালায় দেয়ার জন্য। সংরক্ষণের জন্য তিনি সাইকেলটি দিতে রাজি হওয়ায় রবিবার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮১তম জন্মবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাই সাইকেলটি সংগ্রহশালায় হস্তান্তর করা হবে।
বীরশ্রেষ্ঠের পরিবার জানায়, যুদ্ধ চলাকালীন সময় শেষ বারের মত সাইকেলটি চালিয়ে গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন তিনি।
বর্তমানে সাইকেলটি ব্যবহার করছেন নড়াইল সদরের ডৌয়াতলা গ্রামের স্কুল শিক্ষক মৃত অলিয়ার রহমানের ছেলে এমদাদুল হক। তিনি বলেন, ‘বাবার মুখে অনেক বার শুনেছি আমার কাকা (বাবার মামাতো ভাই) বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ আমার বাবাকে সাইকেলটি যুদ্ধের সময় দিয়ে গিয়েছিলেন। আমার বাবা এই সাইকেলটি অনেক দিন ব্যবহার করেছেন। বাবার অকাল মৃত্যুর পর এই সাইকেলটি এখন আমি ব্যবহার করছি।’
বীরশ্রেষ্ঠের শ্যালক মশিয়ার রহমান জানান, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যশোর থেকে এই বাইসাইকেলটি চালিয়ে একবার বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি যশোর ফিরে যাওয়ার সময় সাইকেলটি আমার বড় ভাই অলিয়ার রহমানের কাছে রেখে যান। তার পর তিনি আর ফিরে আসেননি।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী ফজিলাতুন নেসা কে বলেন, ‘সাইকেলটি আমার স্বামী ব্যবহার করতেন। আমি জানি তিনি সাইকেলটি অলিয়ার রহমানের কাছে রেখে গিয়েছিলেন। সরকার এখন সাইকেলটি স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন বীরশ্রেষ্ঠের ব্যবহৃত সাইকেলটি দেখতে পারবে।’
নড়াইল জেলা প্রশাসক মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ে কে জানান, সাইকেলটি বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ব্যবহার করতেন। বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমান সাইকেল ব্যবহারকারীকে একটি নতুন সাইকেল কিনে দেয়া অথবা সমপরিমান অর্থ দেয়ার সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সাইকেলটি বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ সংগ্রহ শালায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
উজ্জল/নাজিব





