মুক্তমনা প্রকাশক হত্যাসহ ব্লগারদের ওপর আক্রমণকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
রোববার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সুজনের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়।
সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, বেশ কিছুদিন ধরে মুক্তমনা লেখক ও ব্লগারদের একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ৩১ অক্টোবর হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস জোড়া হামলা চালানো হয় ঢাকায় দুই প্রকাশক এবং আরও দুই কবি ও ব্লগারের ওপর।
আমরা মনে করি, এ আক্রমণ শুধুমাত্র প্রকাশকদের উপরই নয় মুক্তচিন্তা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপরই আক্রমণ।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে আমরা জানতে পারি যে, অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক হওয়ায় ফয়সাল আরেফিন দীপন ও আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল ছিলেন হামলাকারীদের মূল টার্গেট। একের পর এক লেখক ও ব্লগার হত্যায় নাগরিক হিসেবে আমরা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ, মর্মাহত এবং শঙ্কিত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ফয়সাল আরেফিন দীপন-এর বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক আবুল কাশেম ফজলুল হক। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অধ্যাপক অজয় রায় এর ছেলে ও বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক অভিজিৎ রায়কে একইভাবে হত্যা করা হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকেই এখনো পর্যন্ত পুলিশ আটক করতে পারেনি।
আমরা সুজনসুশাসনের জন্য নাগরিক-এর পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
উল্লেখ্য, ৩১ অক্টোবর বেলা আড়াইটায় লালমাটিয়ায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে প্রথম হামলার খবর পাওয়া যায়। যখন আক্রান্তদের নিয়ে চিকিৎসা চলছিলো এমনি সময় শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটে আরেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কার্যালয়ে এ প্রতিষ্ঠানের মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে রক্তাক্ত ও নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়। দুই ক্ষেত্রেই হামলার পর প্রতিষ্ঠান দুটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
ইআর





