খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান খান নজরুল ইসলামের সাথে বারাকপুর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনের দলীয় আধিপত্য বিস্তার ও কোন্দল জের ধরে দ্বন্দ এবার প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। শুরু হয়েছে পাল্টা-পাল্টি অনিয়ম ও হুমকির অভিযোগ।
উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে দু’জন-ই সভাপতি প্রার্থী এবং উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়াকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে উত্তেজনা চলছে, এ দিকে আতংকে কাটছে এলাকাবাসীর।
এ বিষয় স্থানিয়বাসিন্দারা বলেন, তাদের উত্তেজনা ও হুমকির স্বীকার হবে দিঘলিয়ার সাধারন মানুষ। ক্ষতি গ্রস্থ হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্র-ছাত্রীরা। গত বৃহস্পতিবার প্রাণ নাশের হুমকির প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতির সভাপতি খান নজরুল ইসলাম উপজেলা সদরে মানববন্ধন করেন। অপরদিকে তার প্রতিত্তর হিসেবে সংবাদ সম্মেলন করেন বারাকপুর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেন। মানববন্ধনে জোরপুর্বক ছাত্র-ছাত্রিদের ক্লাস বন্ধ করে উপস্থিত করান বলে অভিযোগকরেন তারা।
উপজেলার চেয়ারম্যান খান নজরুল বলেন, কয়েকদিন আগে বারাকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ‘যুগান্তরে’ তার সার চুরি হবার একটি খবর ছাপা হয় এবং দিঘলিয়া উপজেলার আ.লীগের সভাপতি হতে না পারায় তার মধ্যে তৈরি ক্ষোভ হয়। তিনি মনে করছেন যে আমি ঐ খবরটা যুগান্তরে ছাপিয়েছি। যার জন্য তিনি আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ ছাড়াও আমার বিরুদ্ধে বারাকপুর ইউনিয়ন থেকে আমার ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত তার সমর্থকদের নিয়ে ১২ জানুয়ারি জঙ্গিমিছিল করেন। এ সময় পুলিশ বাধা দেয়। এ মিছিলে তার সমর্থকরা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খান নজরুল বলেন, আমাকে হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সেনহাটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস এম ফরহাদ। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র-ছাত্রি ও অভিভাবকগণ।
এ বিষয় এস এম ফরহাদ বলেন, খান নজরুলকে প্রাণ নাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন করতে বলা হয়েছে বলে আমি মানববন্ধন করেছি। কারন তিনি শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং আমাদের স্কুলে ৩৫ বছর প্রধান শিক্ষক ছিলেন । কিন্তু কি কারনে তাকে এই হুমকি দেয় তা আমি জানি না।
এ দিকে ইউপি চেয়ারম্যান গাজি জাকির এসব অভিযোগকে তারকাখ্যাতি পাওয়ার উপায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং অভিযোগকারীকে মিথ্যাবাদীও বলেন। কাউকে প্রাণ নাশের হুমকি দেননি বলে দাবী করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি উড়িয়েদেন তিনি।
গাজি জাকির বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করি। তিনি আরো বলেন, আমি তার কাছে সাড়ে ২৬ লাখ টাকা পাবো। টাকা না দেয়ার জন্য আমার নামে এসব অভিযোগ দিচ্ছে।
তিনি জানান, কিছুদিন পূর্বে বর্তমান দিঘলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান খান নজরুল ইসলামের ভাইপো খান হাবিবুর রহমান বিপুলের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা ভৈরব নদীতে সরকারি সার চুরি করতে গিয়ে উপজেলা পুলিশ প্রশাসনের হাতে বিপুল পরিমাণ সারসহ ধরা পড়ে। যা বর্তমানে উপজেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে জব্দ আছে। বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য গত ১১ জানুয়ারি মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদে আমাকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার করে।
তারই রেশ ধরে উপজেলার চেয়ারম্যানের ভাইপো ইউপি সদস্য খান ইমরান হোসেন সাগর ক্ষিপ্ত হয়ে দিঘলিয়া থানায় আমার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করে (নং-৫৭০, ১৩/০১/২০১৭ ইং) বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পথেরবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিঘলিয়া উপজেলা আ’লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অনুরোধে উপজেলা চেয়ারম্যান খান নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। দুর্ভাগ্যবশত ব্যাপক জনপ্রিয়তা গ্রহণ যোগ্যতা থাকা সত্তেও সরাসরি ভোট না হওয়ায় আমি উক্ত সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হতে পারিনি।
দলের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের ইচ্ছায় এবং দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলার প্রতি অনুগত হয়ে দলের সাথে নেতৃবৃন্দের সুপারিশকৃত কমিটির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করি।আমি আগামীতে দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আমার জনপ্রিয়তা ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন স্থানে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য অপ্রচার ও অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলে আভিযোগ করেন তিনি।
মামুন/নাজিব





