মু‌ক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছয় দফা দাবি ও দাবি আদায়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি। র‌বিবার (১৫ এ‌প্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক গণজমায়েত অনুষ্ঠান থেকে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি পেশ করেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সভাপ‌তির বক্তব্যে ছয় দফা দাবি পেশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি চাকরি থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করেছেন, এতে আমাদের কোনো দুঃখ বা ব্যথা নেই। কিন্তু আমাদের কিছু দাবি রয়েছে।

দাবিগুলো হলো: ১. আন্দোলনে কোটা সংস্কারের নামে হত্যার গুজব ছড়িয়ে উস্কানি দিয়ে দেশে অরাজকতা ও নাশকতা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

২. জামাত-শিবির, যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও তাদের দলের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া বন্ধ করতে হবে।

৩. জামাত- শিবির ও স্বাধীনতাবিরোধী যারা সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করছে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও সরকারের সরকার বিরোধী নানা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে।

৪. যুদ্ধাপরাধীদের সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

৫. ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে যারা পুড়িয়ে, পিটিয়ে, কুপিয়ে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, বিজিবি ছাত্র, যুবক শিশু নারীসহ অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে এবং আগুন সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, স্পেশাল ট্রাইবুনাল গঠন করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৬. মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্নকারী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটাক্ষকারীদের বিরুদ্ধে পশ্চাত্যের হলোকাস্ট বা জেনোসাইড জিনায়েল ল' এর আদলে আইন প্রণয়ন করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

কর্মসূচিগুলো হল : ১. আগামী ১৮ এপ্রিল বুধবার বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় পরিষদের ৬ দফা দাবির ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি পেশ করা হবে।

২. ২০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় গণসংযোগ করা হবে।

৩. ২২ এপ্রিল রবিবার সকাল ১০ টায়, বাংলাদেশের সকল মহানগর জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, সহকারী কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডার বৃন্দ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের প্রতিনিধি সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

৪. ৩০ এপ্রিল, সোমবার বিকাল ৩ টায়, শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের শান্ত প্রজন্ম, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্মচারী, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সকল সংগঠন সহ সকল স্তরের জনতার এক মহাসমাবেশ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে।

৫. ৫ মে ভোটার মুক্তিযুদ্ধের, মুক্তিযুদ্ধের সন্তান ও প্রজন্ম, শ্রমিক-কর্মচারীর বিভিন্ন পেশার সংগঠন, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।

নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে গণ জমায়েতে ও মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক আশিবুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম সুলতান আহমেদ, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা এমপি, সাংবাদিক আবেদ খান, নাট্যব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান এবং এডভোকেট আসাদুজ্জামান দুর্জয় প্রমুখ।