ভরা মৌসুমেও সাগরে ইলিশের দেখা না পাওয়ায় উৎকন্ঠায় ভোলার জেলেরা। সারাদিন উপকূল চষে বেড়িয়েও শিকার না মেলায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের।

তাদের মতে, একদিনের মাছ শিকারে তেলের দামসহ খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। অথচ এখন প্রতিদিন যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যায় তাতে খরচের অর্ধেকও ওঠে না। এভাবে আর কিছুদিন চললে আড়তদারের দাদনের দায়ে এলাকা ছাড়তে হবে বলেও আশঙ্কা জানান তারা।

প্রতিবছর জৈষ্ঠ্য থেকে আশ্বিন পর্যন্ত পাঁচ মাস ইলিশের মৌসুম। আষাঢ়ে শুরু হয় ভরা মৌসুম। আর এ মৌসুমকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার জেলে জাল-নৌকা প্রস্তত করে সাগরে নামলেও এবার তাদের ফিরতে হচ্ছে অনেকটা খালি হাতেই। ফলে ইলিশ সংকটে এখনও জমে ওঠেনি দুই শতাধিক মৎস্যঘাট।

অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় আড়তদার আব্দুল মালেক বলেন, ইলিশের ওপর নির্ভর করেই চলে উপকূলের জেলেদের জীবন-জীবিকা। সারা বছর আমরা এই সময়টার অপেক্ষায় থাকি। অথচ এই ভরা মৌসুমেও নদী-সাগরে ইলিশ না মেলায় জেলেদের দিন কাটছে অভাব-অনটন আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।

তার সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে জেলে মিলন বলেন- বছরের বেশিভাগ সময়ই আমরা বেকার কাটাই। আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষায় থাকি মৌসুমের। এ সময়টায় দিনরাত খেটে মাছ ধরবো, আড়তদারের দাদন শোধ করে সারা বছরের সঞ্চয়ও করবো। অথচ সময়মত নদী-সাগরে গিয়েও মাছ পাচ্ছি না। এ অবস্থায় হতাশা আর উৎকন্ঠায় দিন কাটছে পুরো জেলেপল্লির। বিগত বছরগুলোতে এমন সময় মাছের ঘাট সরগরম থাকলেও এবার যেন পাল্টে গেছে সে চিত্র। মৌসুম শুরুর প্রায় দু’মাস পেরিয়ে গেলেও নিষ্প্রাণ মাছ ঘাট।


জেলার বৃহৎ মৎস্য আড়ৎ চরফ্যাশনের ঢালারচর, সামরাজ, তজুমুদ্দিনের স্লুইসগেট, দৌলতখানের ভরানীপুর, মনপুরার কাটারখাল, বোরহানউদ্দিনের হাকিমুদ্দিনসহ বিভিন্ন ঘাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবছর এ সময়টায় এসব ঘাট থেকে আহরণ করা শ’ শ’ মণ ইলিশ বরিশাল, চাঁদপুর ও ঢাকায় পাঠানো হলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। এখান থেকে অন্য জেলাগুলোতে তেমন একটা মাছ যাচ্ছে না। বরং স্থানীয় বাজারগুলোতেও ইলিশের দাম অনেক চড়া।

আড়তদার খোকন বলেন, গত মৌসুমে স্থানীয় মোকামে প্রতিমণ ইলিশ যেখানে ২৭ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো এবার তার দাম বেড়ে হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাময়িক এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ। ভোলার মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক বলেন, এ সময়টায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই এ চিত্র পাল্টে যেতে পারে।

তিনি এও বলেন, গত মৌসুমে জেলায় এক লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ হলেও এ বছর তা পরিমাণে কিছুটা কম হতে পারে।

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই