নোয়াখালী জেলার হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সুষ্ঠ ভোট নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। সোমবার নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে উপকূলীয় দুই উপজেলা হাতিয়া ও সুবর্ণচরে ব্যালট পেপার, ব্যালট বক্সসহ নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।
প্রথম ধাপে মঙ্গলবার জেলা হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৫১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৩টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপুর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন।
এর আগে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। চরজব্বার থানার পুলিশ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে সাজানো মামলায় জড়াচ্ছে।
চরজুবলী ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী মোঃ হানিফ জানান, তিনি বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে এলাকার শিক্ষা থেকে শুরু করে অনেক উন্নয়ন করেছেন। তার অসামপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য তিনি ভোট চাইছেন। এছাড়া দলীয় প্রতীক নৌকা পাওয়ায় তিনি নিজেকে একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি বলে দাবি করেন।
চরজব্বর ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী মোঃ আবদুল্লাহ'র সঙ্গে তিনিও জানান ভোট সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে তার মতো ভোটারদেরও সংশয় রয়েছে। ভোট সুষ্ঠু না হওয়ার সম্ভাবনাই তিনি বেশি দেখছেন।
ভোটাররা তাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় জানান, যাকে দিয়ে এলাকার উন্নয়ন হবে, বিশেষ করে চরের রাস্তাঘাট, শিক্ষাসহ কৃষকের বিভিন্ন ধরেনের সহযোগিতা করবেন তাকেই ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান, মেম্বার বানাবেন।
সূবর্নচর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাইফুল আলম জানান, ৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৩ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৩ হাজার ২৫৩ এবং নারী ভোটার ৭৯ হাজার ২৮৫ জন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৮ জন। এবং সংরক্ষিত ও সাধারণ পদে ৩৮৩ জন। পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি যাতে ভঙ্গ না হয় সে দিকে কঠিন মনিটরিং করছেন।
ইতোমধ্যে হাতিয়ার সবকয়টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
এসব কেন্দ্রগুলোর মধ্যে হাতিয়ার ৭টি ইউনিয়নে ভয়াবহ সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সাধারণ ভোটাররা।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৫০জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৮৬ জন পুরুষ ও ৭২ হাজার ১৩৪ জন নারীসহ মোট ১ লাখ ৯১ হাজার ৫২১ জন ভোটার রয়েছেন।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে ৯৬৫ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি, র্যাব, কোষ্টগার্ড ও আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও নির্বাচন কমিশনের ৫টি পর্যবেক্ষক দল কাজ করবে।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ পিপিএম জানান, হাতিয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুই উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রে ও বাহিরে নিরাপত্তার জন্য ৯৪১জন পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন ও সাধারণ আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি বিজিবি ও র্যাব সদস্যরাও থাকবে।
এমআইএস।





