যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকার পুটখালী ইউনিয়নের বালুন্ডা গ্রামে চতুর্থ শ্রেণির (১১) এক ছাত্রীকে দোকানে আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক সিরাজ বিশ্বাসকে (৫৫) আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়। শিশুটিকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়ার পর পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) অপূর্ব হাসান সিরাজ বিশ্বাসকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ধর্ষক সিরাজ আওয়ামী লীগ কর্মী ও এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ধর্ষিতার পরিবার এই ক’দিন মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
পরে গ্রামের একটি পক্ষ তাদের পাশে এসে দাঁড়ালে ১৮ আগস্ট দুপুরে ধর্ষিতার মা স্থানীয় ইউপি সদস্যর কাছে ধর্ষকের শাস্তি চেয়ে বিচার দেয়।
ধর্ষিতার পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ১৫ আগস্ট আনুমানিক সকাল সাড়ে ৬ টার সে কোরআন শরীফ পড়তে মসজিদে যাচ্ছিল। এ সময় তাকে রাস্তায় একা পেয়ে আওয়ামী লীগ কর্মী সিরাজ বালুন্ডা বাজারে অবস্থিত তার মুদি দোকানে ধরে নিয়ে যায়।
পরে দোকানের শাটার আটকিয়ে মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোক ছুটে এলে সিরাজ তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে খবর পেয়ে স্বজনরা শিশুটিকে উদ্ধার করে শার্শার বাগআঁচড়া বাজারে অবস্থিত একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে চাইলে ধর্ষকের প্রভাবশালী স্বজনদের হুমকিতে শিশুটির অসহায় মা বিচার চায়তে পারেনি।
অবশেষে এ ঘটনার চার দিন পর এলাকার কিছু মানুষ তাদের পাশে এসে দাঁড়ালে শিশুটির মা স্থানীয় জন প্রতিনিধি ইউপি সদস্য তবিবরকে ঘটনা খুলে বলে বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য কোহিনুর বেগম বলেন, তিনি শিশুটির বাড়ি গিয়েছিলেন, মঙ্গলবার সকালে তাকে চিকিৎসার জন্য যশোরে নেওয়া হয়েছিল। তার মা ও প্রতিবেশীদের মুখে তিনি শিশুটির এ অবস্থার কথা শুনেছেন।
এ ব্যাপারে পুটখালী ইউনিয়নের বালুন্ডা গ্রামের ইউপি সদস্য তবিবর ধর্ষণের সত্যতা স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত (ধর্ষক) সিরাজ এলাকা ছাড়া রয়েছে।
আগামী ২১ আগস্ট গ্রাম্য সালিশের দিন ধার্য করা হয়েছে। শিশুটির পরিবার গরীব হওয়ায় তারা সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কেএইচ





