ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর পথসভায় গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) সাতজন আহত হয়েছেন।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পরারণ গ্রামের মুন্সিবাড়ি কুমপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা দীপক মজুমদারের শটগান থেকে অসতর্কতায় গুলি বেরিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

দীপক ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। ঘটনার বিষয়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্য অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, তিনি ওই সভায় ছিলেন না।

গুলিতে আহত পুলিশের কর্মকর্তার নাম নাজমুল ইসলাম। তিনি ভাঙ্গা থানার ওসি। আহত অন্য ছয়জন হলেন সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সাহেব আলী (৪৮), ভাঙ্গার আজিমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৩ নম্বর ইউনিটের সভাপতি সোবহান মিয়া (৬৫), কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পরারণ গ্রামের জমির মাতুব্বর (৬০) ও ফরমান মাতুব্বর (৫৬), খাটরা গ্রামের শাহজাহান মিয়া (৫০) ও সদরপুরের চরমানাই গ্রামের ইমারত আকন (৫৬)।

আহত ব্যক্তিদের প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে গুরুতর আহত ছয়জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ইমরান আলী বলেন, গুলিবিদ্ধ সাতজন এই হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ওসি নাজমুলও ছিলেন। গুলিতে তার নাক সামান্য জখম হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য ছয়জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুক, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় তারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে ওসি নাজমুল বলেন, ‘দীপক মজুমদারের শটগান থেকে অসতর্কতামূলকভাবে মিস ফায়ার হলে এ ঘটনা ঘটে।’
প্রথম আলোর কাছে দীপক দাবি করেন, ‘আমি ওই সভায় ছিলামই না। তাই আমার শটগানের গুলিতে কারও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।’

দীপকের ভাষ্য, ‘শুনেছি ওই সভায় একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।’

একে একটি ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন দীপক।

গুলিতে আহত চরমানাইর ইউপি সদস্য সাহেব আলীর ভাষ্য, ‘আমরা সভাস্থলের বাম পাশে বসেছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি শব্দ হলো। মুহূর্তের মধ্যে আমিসহ অন্যদের গায়ে গুলি লাগল।’

আওয়ামী লীগ কর্মী বৃদ্ধ নুরুল আমিন জানায়, হঠাৎ মনে হল কোথায় থেকে একটি বোমার মতো উপর থেইকা কি যেন ফুটলো। আমার পাশের লোকজন তখন মাটিতে পইড়া গেল। বৃদ্ধ জানান, সবাই আওয়ামীলীগের লোক।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্যমতে, আজ সকালে পরারণ গ্রামের মুন্সিবাড়ি কুমপাড় এলাকায় কাজী জাফরউল্লাহর একটি পথসভার আয়োজন করা হয়। তিনি সকাল সাড়ে আটটার দিকে সভাস্থলে এসে চেয়ারে বসেন। তার বাঁ পাশে ছিলেন ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দীপক মজুমদার।

হঠাৎ করে তার শটগান থেকে গুলি বের হলে ওসিসহ সাতজন আহত হন। ঘটনার পর সভাস্থলে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সভার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। সভায় আসা লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এআর/ইআর