নড়াইল সদর উপজেলার টাবরা নবকৃষ্ণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই করুণ। শ্রেণি কক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে গাছতলায়।
প্রায় দুই বছর আগে একতলা বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তাই রোদ,বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের গাছতলায় ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে করে পড়ালেখার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘত হচ্ছে।
১৯৪২ সালে চারণকবি বিজয় সরকার কর্তৃক এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। টাবরা গ্রামে কবির বাবা নবকৃষ্ণের নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় বিদ্যালয়টির নাজুক অবস্থা।
টাবরা নবকৃষ্ণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তন্ময় বিশ্বাস জানান, ১৯৯৫ সালের জুন মাসে ভবনটিতে ক্লাস শুরুর ১০ বছরের মধ্যে তা জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ভবনটির ভগ্নদশার কারণে গাছতলায় ক্লাস করাতে হয়।
নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হ্যাপি, চৈতী ও মুক্তা জানায়, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে গাদাগাদি করে কখনো টিনের ঘরে, কখনো গাছতলায় ক্লাস করতে হয়। রাস্তা কাঁচা থাকায় বর্ষা মৌসুমে খুব কষ্টকরে স্কুলে আসতে হয়। অনেক সময় বিদ্যালয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।
বছরের ছয় মাসের বেশি সময় রাস্তা কাদা-পানিতে ডুবে থাকে। মাঝে মধ্যে এমন কাদাপানির রাস্তায় পড়ে পোশাকসহ বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ে অবকাঠামো দুর্বলতা থাকায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় দিন দিন ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, ২০১৪ সালের প্রথম দিকে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। এরপর সংস্কারের জন্য ওই বছরের ডিসেম্বরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোন নতুন ভবন নির্মানেরও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বর্তমানে দু’টি টিনের ঘরে পাঁচটি শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চলছে। দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অতিকষ্টে সেখানে লেখাপড়া শিখছে।
অবসরপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার নরেশ চন্দ্র দাস জানান, উপ-মহাদেশ বিখ্যাত কবিয়াল বিজয় সরকারের নামে প্রতিষ্ঠিত টাবরা নবকৃষ্ণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি রিমোট এরিয়ায় শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভমিকা পালন করছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর অবকঠমোগত উন্নয়ন হওয়া প্রয়োজন।
নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আসছে। সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক দীলীপ কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে অত্যন্ত সুন্দরভাবে পাঠকার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল করছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু অবকাঠামোগত কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে। অচিরেই এখানে ভবন নির্মান প্রয়োজন।
জেলা শিক্ষা অফিসার মনিরা সুলতানা জানান, সুন্দর লেখাপড়র জন্য সুন্দর পরিবেশ দরকার কিন্তু এ বিদ্যালয়ের তা নেই। বিশেষ করে শেণি কক্ষ ও সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক।
শিক্ষা বিস্তারের স্বার্থে দ্রতইএসমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন। পুরাতন একজন বিখ্যাত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় বাসগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি সভাপতি হওয়ার পরে এ বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ ও আবেদন করেছেন। বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ জানান, কবি বিজয় সরকারের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
রিন্টু/ এআই





