ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু সার্বিকভাবে কক্সবাজারের তেমন বেশি ক্ষতি করতে পারেনি। তবে এর কারণে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১০ জন। হতাহত সকলেই কুতুবদিয়া উপজেলার বাসিন্দা।
শনিবার বিকেল ৩ টার দিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং এ এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।
নিহতরা হলেন, কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে মো. ইকবাল (২৫), উত্তর কৈয়ার বিল এলাকার ফয়েজুর রহমানের ছেলে ফজলুল হক (৫৫)।
এর মধ্যে মো. ইকবাল বাড়ির দেয়াল চাপায় এবং ফজলুল হক নৌকায় বসা থাকা অবস্থায় অপর একটি নৌকার ধাক্কায় আহত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন বলে নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন এই সময় জানান, আহতদের মধ্যে ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। আহত ৫ জন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অপর ২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এসময় জেলা প্রশাসক জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া ও টেকনাফ উপজেলার সাড়ে ২৮ কিলোমিটার বেড়িবাধ আংশিক এবং সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে গেছে। শতাধিক বসত ঘর নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ে পূর্বাসাভ প্রচারের পর জেলার ১৫৮ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৭ হাজার ৪৩৪ পরিবারের ৮৭ হাজার ১৭০ জন মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করে। একই সঙ্গে জেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
জেলা প্রশাসক এসময় জানান, আপাততে বিপদ সংকেত অব্যাহত থাকলেও ক্ষয়ক্ষতির আশংকা কেটে গেছে। যা ক্ষতি হয়েছে তা অনেক কম বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সকলের সহযোগীতায় প্রস্তুতি গ্রহণের কারণে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয়। তবে যা হয়েছে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রেরণ করা হবে।
প্রেস ব্রিফিংকালে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, জ্বলোচ্ছ্বাসের প্রভাব কেটে গেছে। বিকাল ৫ টার পর আরো কেটে যাবে। শুক্রবার বিকাল ৩ টা থেকে ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হল ৯১ মিলিমিটার।
ওএফ





