ঢাকার কল্যাণপুরে পুলিশ গুলিতে নিহত জঙ্গি সাব্বিরুল হক অনিক “শিবির রেটিনা কোচিং থেকে জঙ্গি দীক্ষা নেন’’ মর্মে দৈনিক আজাদী, সুপ্রভাত বাংলাদেশ সহ কতিপয় গণমাধ্যমে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে প্রচারিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর সভাপতি সালাউদ্দিন মাহমুদ ও সেক্রেটারী নাজিব আহসান।

যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, এদেশের হাজারো শিক্ষার্থী-অভিভাবকের প্রিয় শিক্ষা সহায়ক প্রতিষ্ঠান “রেটিনা’’ অত্যন্ত সুনামের সাথে মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা দিয়ে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর থেকে শিক্ষার্থীরা ৩ মাসেরও কম সময় পেয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা এ অল্প সময়ে যেখানে ভর্তিযুদ্ধে প্রস্তুতি নেবার লক্ষ্যে তাদের পড়ালেখা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে সেখানে জঙ্গি কাজে তৎপর হওয়া কিংবা দীক্ষা দেয়া-নেয়ার সুযোগ লাভের বিষয়টি কোন ভাবেই আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।

তাছাড়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পদার্থ, রসায়ন, জীব বিদ্যা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে তাদের শাণিত মেধার বিনিময়ে চিকিৎসা বিদ্যা অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে থাকে যা বাণিজ্য বা মানবিক বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। ঢাকার কল্যাণপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত ৯ জঙ্গির অন্যতম সাব্বিরুল হক অনিক ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নগরীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ তো দূরের কথা তারা সেখানে ফরম পূরণ করার ন্যূনতম যোগ্যতাও নেই।

এ অবস্থায় নিহত জঙ্গি সাব্বিরুলের রেটিনা কোচিং এ ভর্তি হবার প্রশ্নটি একেবারেই অবান্তর ও পাগলের অন্তঃসার শূণ্য প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। ভোটার বিহীন অবৈধ আওয়ামী প্রশাসনের মনগড়া বানোয়াট বুলি দিয়ে এদেশের জনগনকে ধোঁকা দিতেই তারা কতিপয় দলান্ধ গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে এহেন জঘণ্য ভিত্তিহীন ও অরুচিকর কাল্পনিক নাটকের মঞ্চায়ন করেছে। যা একজন বিবেকবান, সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন ছাত্রশিবির কখনো জঙ্গিবাদকে বিশ্বাস করে না। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ইসলামী ছাত্রশিবির তার নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় উচ্চাবিলাসী অসৎ কর্মকর্তা ও দলকানা গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনা সংশ্লিষ্ট কোন বিশ্লেষণ না করেই দায়সারা ভাবে তা ছাত্রশিবির ও জনসেবামূলক শিক্ষা সহযোগী প্রতিষ্ঠান রেটিনা’র উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

ক্ষমতালোভী আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ভূলুন্ঠিত করে নিজেদের আখের গোছাতে নিজ দলের ভেতরে জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে লালন করলেও তাদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর ঘৃণ্য চক্রান্ত চালাচ্ছে যা দেশ বিরোধী ভয়ংকর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। তাদের জঙ্গি জঙ্গি তোলা রব সারা দেশের মানুষকে গিলে খেলেও অবৈধ সরকারের প্রশ্রয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী রাতের আঁধারে নিরপরাধ ছাত্রদের বাসা থেকে ধরে এনে বন্দুক যুদ্ধের নামে মিথ্যা নাটক রচনার মাধ্যমে তাদেরকে চিরতরে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

দেশে কোন ঘটনা ঘটলেই তার দায় জামায়াত-শিবিরের উপর চাপানোর যে প্রবণতা তা থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এখনো বের হতে পারে নি। প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করার আগেই এহেন অপপ্রচার প্রমাণ করে কোন অদৃশ্য মহলের ইশারায় পুলিশ সত্যকে আড়াল বা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছে।

নেতৃবৃন্দ ঘটনার সাথে অপরাজনীতি কিংবা শিবিরকে না জড়িয়ে প্রকৃত ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচন করার দাবী জানিয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম গুলোকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানান।

এফএফ